ঢাকায় উত্তাল মশাল মিছিল! রাম মূর্তি অবমাননার প্রতিবাদে ফুঁসছে হিন্দু সংগঠনগুলো

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বর্তমানে এক তীব্র উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে নির্মিতব্য ৮১ ফুট উঁচু শ্রীরাম মূর্তির কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং রামের ছবির অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজপথে নেমে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। হিন্দু সংগঠনের নেতৃত্বে আয়োজিত এই মশাল মিছিল রাজধানীর শাহবাগ জংশন থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের দিকে এগিয়ে যায়, যেখানে বিক্ষোভকারীরা এক বিশাল মানবশৃঙ্খল তৈরি করে প্রতিবাদ জানান।

ঘটনার সূত্রপাত গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে, যেখানে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মন্দির কমপ্লেক্সের অংশ হিসেবে এই বিশাল মূর্তিটির নির্মাণকাজ চলছিল। মূর্তির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ইসলামিক সংগঠনগুলোর হুমকির মুখে নির্মাণকাজ থমকে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি একটি প্রতিবাদ মিছিলের সময় কিছু বিক্ষোভকারী শ্রীরামের ছবির ওপর জুতো রেখে অত্যন্ত আপত্তিকর আচরণ করে। এই ঘটনা হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

হিন্দু সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পুলিশি তৎপরতা থাকলেও এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি। তাদের মতে, তারিক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এই ব্যাপারে দীর্ঘ নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হিন্দু মহাজোট সরকারের কাছে দোষীদের গ্রেফতারের জন্য ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। তাদের সাফ কথা, যদি মূর্তির কাজ পুনরায় শুরু করার অনুমতি না দেওয়া হয়, তবে তারা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় রাম মন্দির নির্মাণের কর্মসূচি ঘোষণা করবে। পূজা উদযাপন জাতীয় কমিটিও এই ঘটনার প্রতিবাদে দেশব্যাপী বড় ধরনের আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে।

উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে রংপুরেও। সেখানে প্রতিবাদ মিছিল আটকাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে দেশে অন্তত ১৩৩টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশের হিন্দু সংগঠনগুলো এখন তাদের ধর্মীয় অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় মরিয়া। শনিবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার মাধ্যমে তারা তাদের দাবি আরও জোরালো করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ঢাকার রাজপথে এই মশাল মিছিল যেন সেই প্রতিবাদেরই এক জ্বলন্ত রূপ।