রেড রোডে মোদীর যোগাভ্যাস! কলকাতার আতিথেয়তায় মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী, দিলেন বিশেষ বার্তা

রবিবার সকালের আবছা আলোয় কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোড চত্বর পরিণত হয়েছিল এক বিশাল যোগমঞ্চে। দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল উদযাপন পর্বে শামিল হতে এদিন কলকাতা সফরে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সকাল সাড়ে ছ’টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর, রেড রোডের বিস্তীর্ণ ময়দানে উপস্থিত প্রায় ৩৫ হাজার উৎসাহী মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যোগাসনে অংশ নেন তিনি। এই সুবিশাল আয়োজন কেবল শারীরিক কসরতের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছে শহর ও প্রশাসনের সম্মিলিত সদিচ্ছার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মূল অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে কলকাতার আতিথেয়তা এবং নাগরিক চেতনার প্রতি অকুন্ঠ প্রশংসা ব্যক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন, “কলকাতার ভাই ও বোনদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এমন দুর্দান্ত আয়োজক হওয়ার জন্য এই প্রাণবন্ত শহরে যোগ দিবস উদযাপন করা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের।” প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা শহরবাসীর মনে এক বিশেষ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উল্লেখ্য, এই মেগা ইভেন্টকে সামনে রেখে কলকাতা পুরনিগম এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্থার নেতৃত্বে শহরজুড়ে যে ব্যাপক সাফাই অভিযান চালানো হয়েছিল, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টতই উল্লেখ করেছেন যে, নাগরিক কর্তব্য পালনে কলকাতার বাসিন্দারা দেশজুড়ে এক বড় বার্তা দিয়েছেন।
রেড রোডের মূল মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে ফুটে উঠেছে বাংলার প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা। আধ্যাত্মিকতার যোগসূত্র টানতে গিয়ে তিনি স্মরণ করেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দ এবং ঋষি অরবিন্দের মতো মহাপুরুষদের। তিনি বলেন, “এই কলকাতা রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে বিশ্বমঞ্চে পরিচয় করিয়েছে, স্বামী বিবেকানন্দ এই বাংলা থেকেই যোগের উপকারিতা বিশ্বকে শিখিয়েছেন।” গীতায় শ্রীকৃষ্ণের যোগদর্শনের প্রসঙ্গের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যের জয়গান গেয়েছেন।
এদিনের সফর কেবল যোগাভ্যাস ও আধ্যাত্মিকতায় থেমে থাকেনি; বরং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বার্তার পাশাপাশি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে মজবুত করার এক বড় অধ্যায়ও রচিত হয়েছে। যোগ দিবসের কর্মসূচি শেষ করেই প্রধানমন্ত্রী সোজা রওনা হন গার্ডেনরিচের দিকে। সেখানে গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-এর বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তিনি ভারতীয় নৌ-বাহিনীর হাতে তুলে দেন তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এই কলকাতা সফর যোগের শান্তিবার্তা এবং দেশের সামরিক শক্তির এক অনন্য সংমিশ্রণ হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিল।