উৎসবের আগেই রেকর্ড দাম! চিনির কালোবাজারি রুখতে ১৫ দিনের কড়া নিয়ম জারি করল কেন্দ্র!

আসন্ন উৎসবের মরশুমের আগে দেশে চিনির দাম হুহু করে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর জেরে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারি কঠোরহস্তে দমন করতে ফের বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি ব্যবহারকারী বড় বাণিজ্যিক ক্রেতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলি এখন থেকে ১৫ দিনের বেশি অতিরিক্ত চিনি মজুত রাখতে পারবে না।
কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রকের গত ১৯ অগস্টের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, নতুন এই কঠোর মজুতসীমা আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এর আগে গত জুলাই মাসে বড় ব্যবসায়ী ও পাইকারি ক্রেতাদের জন্য চিনির মজুতসীমা ৩০ দিন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পদক্ষেপের পরেও বাজারে লাগাম টানা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক মাসের ব্যবধানে দেশে চিনির দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সর্বকালীন রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
কেন্দ্রের এই নতুন বিধিনিষেধ মূলত সেই সমস্ত বড় প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের জন্য প্রযোজ্য, যারা মাসিক ভিত্তিতে অন্তত ১০ মেট্রিক টন বা তার বেশি চিনি ব্যবহার করেন। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে বিস্কুট ও মিষ্টি প্রস্তুতকারক সংস্থা, কনফেকশনারি, কোমল পানীয় উৎপাদক, বড় ফুড প্রসেসিং ইউনিট ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। বিগত এক বছরের গড় মাসিক ব্যবহারের ভিত্তিতে এই ১০ মেট্রিক টনের সীমা নির্ধারণ করা হবে, যদিও চলতি মাসের ব্যবহার এই হিসাবের আওতাভুক্ত হবে না। তবে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের অধীনস্থ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি এই কঠোর মজুতসীমার বাইরে থাকবে।
মূলত উৎসবের মরশুমের বাজারে চিনির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এবং বড় বাণিজ্যিক ক্রেতাদের অতিরিক্ত মজুত জমানোর প্রবণতা রোধ করাই এই পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য। দেশজুড়ে গণেশ চতুর্থী, দুর্গাপুজো এবং দীপাবলির মতো পরপর বড় উৎসবগুলির কারণে প্রতি বছর অগস্ট থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত চিনির অভ্যন্তরীণ চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। এই সময়ে মিষ্টি, বিস্কুট ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি অতিরিক্ত মুনাফার আশায় অগ্রিম প্রচুর পরিমাণ চিনি কিনে গুদামজাত করে রাখে, যার ফলে সাধারণ বাজারে মারাত্মক সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়। কেন্দ্রের এই সময়োচিত সিদ্ধান্ত সেই কৃত্রিম সংকট মোকাবিলা করারই একটি সুচিন্তিত প্রয়াস।
বিশ্লেষকদের মতে, গত মাসে মজুতসীমা ৩০ দিন করা হলেও দামের ঊর্ধ্বগতি থামানো যায়নি, তাই বাধ্য হয়ে সেই সময়সীমা কমিয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে। এর ফলে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর—এই ব্যস্ত তিন মাসে বড় সংস্থাগুলির পক্ষে প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিনি গুদামে আটকে রাখার সুযোগ অনেকটাই ফুরিয়ে এল। বর্তমান বাজারে দাম বাড়ার পেছনে শুধুমাত্র মজুতদারি নয়, বরং অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং কিছু অঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আখ চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। আখের ফলন কম হলে চিনির জোগান আরও ব্যাহত হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্র এর আগে সীমিত শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির মতো বড় পদক্ষেপের কথাও বিবেচনা করেছিল। এখন দেখার বিষয়, ১৫ দিনের এই কঠোর মজুতসীমা কার্যকর হওয়ার পর খুচরো বাজারে চিনির দাম কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সাধারণ মানুষের পকেটের চাপ কিছুটা লাঘব হয় কি না।