ডাক পড়েছে অ্যাম্বুলেন্সের, তীব্র গরমের জেরে একুশের মঞ্চে বিপর্যয়! অসুস্থ একাধিক তৃণমূল নেতা

আজ একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সভায় তীব্র গরম ও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বরিষ্ঠ নেতা অসুস্থ হয়ে পড়েন। বেলা দেড়টা নাগাদ যখন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে বক্তৃতা শুরু করেন, তার কিছুক্ষণ পরেই সভাস্থলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ আচমকাই অচৈতন্য হয়ে পড়লে দ্রুত তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। একইসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন সাংসদ শতাব্দী রায়, মহুয়া মৈত্র এবং প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র সহ আরও অনেকে।

দুপুর দেড়টা নাগাদ যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তৃতা শুরু করেন, তার ঠিক কিছুক্ষণের মধ্যেই সভাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান শতাব্দী রায়। তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “ভীষণ অসুস্থ লাগছে।” কিছুক্ষণের মধ্যেই জানা যায়, কীর্তি আজাদ মঞ্চের কাছে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাম্বুলেন্স এনে তাঁকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এই ঘটনার সময় অ্যাম্বুলেন্সের ভিতরে উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও।

গরম ও আর্দ্রতার দাপট:

প্রাথমিক ধারণা, তীব্র গরম এবং উচ্চ আর্দ্রতার জেরেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই শহরে প্রচণ্ড রোদ ছিল। দুপুরের দিকে বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৬ শতাংশের বেশি। এই উচ্চ আর্দ্রতায় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়েই অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘক্ষণ ধরে ভিড়, আবেগ এবং দাঁড়িয়ে থাকা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে।

একজন স্বেচ্ছাসেবক জানান, “অনেকেই হঠাৎ মাথা ঘোরার কথা বলছেন। কারও পা কাঁপছে, কেউ জলের খোঁজ করছেন।” তৃণমূলের এক কর্মী বলেন, “সকাল ৭টা থেকে এখানে দাঁড়িয়ে আছি। জল আছে, কিন্তু শরীর আর নিতে পারছে না।”

পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতা:

অসুস্থ নেতাদের দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সভাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাইরে থেকেই অ্যাম্বুলেন্স এনে তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। মঞ্চের নিরাপত্তা ঘিরেও তৎপরতা শুরু হয়। তবে, এখনও পর্যন্ত কীর্তি আজাদ বা অন্যান্য অসুস্থ নেতাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মেডিকেল বুলেটিন প্রকাশ করা হয়নি। তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি গুরুতর নয় এবং তাঁদের চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনা সমাবেশের মাঝে সাময়িক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেও, সভার কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।