“ট্রেনে বোমা রাখা আছে!”-সিট না পেয়ে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন দুই ভাইয়ের, গ্রেফতার ২

ট্রেনে বসার জায়গা না পেয়ে রেগে গিয়ে এক নজিরবিহীন কাণ্ড ঘটাল দুই সহোদর। ভিড়ে ঠাসা সাধারণ কামরায় সিট পাওয়ার জন্য তাঁরা রীতিমতো ফন্দি এঁটে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে জানান, ট্রেনে বোমা রাখা আছে! এই খবর শুনে অন্য যাত্রীরা ভয়ে সরে গেলেই তাঁরা বসতে পারবেন— এমনটাই ভেবেছিলেন অভিযুক্তরা। এই ভুয়ো বোমাতঙ্কের জেরে আম্রপালি এক্সপ্রেসকে থামিয়ে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তল্লাশি চালাতে হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম দীপক চৌহান এবং অঙ্কিত চৌহান। তাঁরা উত্তরপ্রদেশের ঘটমপুর এলাকার বাসিন্দা। দীপক লুধিয়ানায় মেকানিকের কাজ করেন এবং অঙ্কিত নয়ডার একটি সংস্থায় কাজ করেন।
কানপুরে নাটক
বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লি থেকে বাড়ি যাওয়ার জন্য আম্রপালি এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন ওই দুই ভাই। সাধারণ কামরায় সিট না পেয়ে তাঁরা কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে মারামারিও করেন বলে অভিযোগ। এরপরেও সিট না পাওয়ায়, তাঁরা কানপুরে আসার পর পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে ট্রেনে বোমা থাকার ভুয়ো খবর দেন।
পুলিশ ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বম্ব স্কোয়াড এবং দমকলের কর্মীদের নিয়ে কানপুর সেন্ট্রাল স্টেশনে পৌঁছায়। ট্রেন থামিয়ে সমস্ত যাত্রীকে নামিয়ে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালানো হয়। তবে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া না যাওয়ায় পরে ট্রেনটি গন্তব্যের দিকে রওনা হয়।
পালানোর চেষ্টা, শেষরক্ষা হলো না
এত পুলিশ এবং তল্লাশি দেখে ভয়ে দীপক এবং অঙ্কিত দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে গিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। তাঁরা কানপুরের ফেথফুলগঞ্জ এলাকায় লুকিয়ে পড়েন। পুলিশ যে নম্বর থেকে ফোন এসেছিল, সেটির সূত্র ধরে খোঁজ শুরু করে।
শুক্রবার সকালে ফোনটি চালু হতেই পুলিশ তার অবস্থান চিহ্নিত করে এবং ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে দু’জনকেই গ্রেফতার করে।
ধরা পড়ার পরে পুলিশের কাছে অভিযুক্তরা স্বীকার করেন যে, যাত্রীরা ভয়ে নেমে গেলেই তাঁরা বসার জায়গা পেয়ে যাবেন, এই ভেবেই বোমাতঙ্কের ফোন করা হয়েছিল।
অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার আকাঙ্ক্ষা পান্ডে জানিয়েছেন, ওই দুই ভাইয়ের কোনও ‘ক্রিমিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড’ পাওয়া যায়নি। তবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভুয়ো খবর দেওয়ায় অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS) তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।