টিভি দেখা নিয়ে বচসার পরিণাম চরম! ক্লাবের পাশ থেকে যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য

উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার পাল্লা গ্রামে টিভি দেখা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে বচসার জেরে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার সকালে ক্লাবের পাশের একটি পটল খেত থেকে ওই যুবকের রক্তাক্ত ও নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার জেরে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ এই মামলায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম বিশ্বজিৎ মুন্ডা (২৫)। তিনি ভিনরাজ্যে সেন্টারিংয়ের কাজ করতেন এবং কয়েক মাস আগে বাড়ি ফিরেছিলেন। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে বাপের বাড়িতে থাকেন। গত মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় পাড়ার ক্লাবঘরে টেলিভিশন দেখা নিয়ে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বিশ্বজিতের তীব্র বচসা বেঁধেছিল। এমনকি বৃহস্পতিবার বিকেলেও সেই বিরোধের রেশ বজায় ছিল। পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় নটা নাগাদ যখন বিশ্বজিৎ বাড়িতে বসে ভাত খাচ্ছিলেন, সেই সময় কয়েকজন বন্ধু তাঁকে জরুরি কাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সারারাত তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্লাবের পাশের পটল খেতের মধ্যে বিশ্বজিতের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহতের দিদি নমিতা মুন্ডা অভিযোগ করে জানান, তিন দিন আগের সেই গোলমালের জেরেই বন্ধুরা তাঁর ভাইকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে খুন করেছে। একই দাবি করেছেন মৃত যুবকের মা নয়নবালা মুন্ডা। তিনি জানান, বেড়ে রাখা ভাত অসমাপ্ত রেখেই বন্ধুরা তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল, যা তাঁর চিরকালের মতো শেষ খাওয়া হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয় ক্লাবের সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় সরকার জানান, ক্লাবের ঘরে তরুণরা অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা দেয় এবং সম্প্রতি টিভি দেখা নিয়েই বিশ্বজিতের সঙ্গে অন্যদের ঝামেলা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় একটি সুনির্দিষ্ট খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। বনগাঁর এক পদস্থ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন যে, ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী ছিল তা খতিয়ে দেখতে আটক ব্যক্তিদের தீவிர জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।