ডিমের ভয়ে পুলিশের মুখোমুখি হতে ভয়? সুপ্রিম কোর্টে তুমুল তিরস্কারের মুখে মহুয়া মৈত্র!

ঘৃণাসূচক মন্তব্য মামলায় পুলিশি হাজিরার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা সাংসদ মহুয়া মৈত্রের করা বিশেষ আর্জি শুনতে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের এই আলোচিত সাংসদ। তবে শুক্রবার শুনানির সময় মহুয়ার আইনজীবীর তরফে আদালতের সামনে তাঁর নিজ এলাকায় সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা ও ডিম ছোড়ার মতো অপ্রত্যাশিত আশঙ্কার কথা তোলা হলে, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কঠোর পর্যবেক্ষণ দেয় বিচারপতিদের বিশেষ বেঞ্চ।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুরের গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে, কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলায় যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তাতে হস্তক্ষেপ করার কোনো অবকাশ নেই এবং আদালত এতে কোনোভাবেই আগ্রহী নয়। এর পরেই মামলাটি খারিজ করে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নিষ্পত্তি করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

শুনানি চলাকালীন মহুয়া মৈত্রের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ আদালতে যুক্তি দেন যে, পুলিশের পাঠানো নোটিস অনুযায়ী সাংসদকে তাঁর নিজস্ব লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একটি নির্দিষ্ট পুলিশ স্টেশনে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতীতের বিভিন্ন অনভিপ্রেত ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আইনজীবী আদালতকে জানান যে, গতবার যখন তিনি সেখানে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর গাড়ি লক্ষ করে ডিম ছোড়া হয়েছিল। এই সমস্ত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তিনি পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল মাধ্যমের অনুমতি প্রার্থনা করেন।

তবে এই ধরনের আর্জিতে তীব্র দ্বিমত প্রকাশ করে বেঞ্চের তরফ থেকে কড়া প্রশ্ন তুলে বলা হয়, “আপনি একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংসদ। রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয়ভাবে লড়াই করেও ডিম ছোড়ার মতো সাধারণ বিষয়কে এতটা ভয় পাচ্ছেন কেন? যেখানে আমাদের দেশের বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীরা দেশের জন্য হাসিমুখে বুকের ওপর গুলি সহ্য করেছেন, সেখানে সামান্য ডিমের ভয়ে এরকম আবেদন নিয়ে সরাসরি শীর্ষ আদালতে আসাই আপনার উচিত হয়নি।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২১ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মহুয়া মৈত্রকে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি কড়া পদক্ষেপ বা গ্রেফতারি থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা প্রদান করেছিলেন। তবে একই সঙ্গে হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মহুয়াকে তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে সশরীরে হাজির হয়ে সমস্ত প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। হাইকোর্টের সেই হাজিরার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তবে সুপ্রিম কোর্ট আবেদন গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করায় অবশেষে সেই আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আগামী ১ অক্টোবর।