গভীর রাতে ক্যাব বুক করতেই হাজির খোদ বিএমডব্লিউ! মুম্বইয়ের এই যাত্রীর কাণ্ড দেখলে চোখ কপালে উঠবে!

মুম্বই শহরে গভীর রাতে ক্যাব কিংবা অটো পাওয়া হামেশাই এক বিশাল চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আশিস জৈন নামে এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্প্রতি ঠিক এমন এক অদ্ভুত ও অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে, যার বিন্দুমাত্র কল্পনাও তিনি করেননি। অফিস থেকে বের হয়ে দীর্ঘক্ষণ কসরত করার পর যখন তিনি একটি ক্যাব বুক করেন, তখন তাঁকে রিসিভ করতে কোনো সাধারণ গাড়ি আসেনি, বরং সেখানে এসে হাজির হয়েছিল একটি ঝাঁ চকচকে এবং বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ বাইক।

অত্যন্ত অবাক হয়ে ওই ব্যবসায়ী যখন চালককে প্রশ্ন করেন যে, ভাই, আপনি পেশাদার উবার রাইডার না হয়েও এই বাইক নিয়ে কেন ক্যাব চালাচ্ছেন? উত্তরে সেই যুবক যা জানায়, তা শুনে রীতিমতো তাজ্জব বনে যান আশিস। ওই যুবক সাফ জানিয়ে দেয় যে, তার এই কাজ করার মূল উদ্দেশ্য কোনোভাবেই অতিরিক্ত টাকা কামানো নয়। বরং এটি তার জীবনের একদম প্রথম উবার রাইড। তার আসল লক্ষ্য হলো নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে মেশা, বিভিন্ন মানুষের জীবনদর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গি কাছ থেকে অনুধাবন করা এবং জীবনের নতুন সব দারুণ অভিজ্ঞতা অর্জন করা।

যাত্রাপথে কথোপকথনের একপর্যায়ে জানা যায় যে, ওই তরুণ চালক আদতে একজন উচ্চশিক্ষিত ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েট। পড়াশোনা শেষ করার পর সে জীবনের নানা পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ে হাত পাকানোর চেষ্টা করেছিল। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে সে যেমন লাভের মুখ দেখেছে, তেমনই কিছু ক্ষেত্রে লোকসানেরও সম্মুখীন হয়েছে। তবে প্রতিটি ব্যর্থতা ও অভিজ্ঞতাই তাকে মানসিকভাবে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলেছে। বর্তমানে সে তার উচ্চশিক্ষার জন্য মাস্টার্স ডিগ্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং একই সঙ্গে জীবনের নতুন নতুন সুযোগের সন্ধানে রয়েছে।

আশিস জৈন যখন তাঁর বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ বাইকটি নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করেন, তখন ওই তরুণ মৃদু হেসে জানায় যে, এই বহুমূল্য বাইকটি সে নিজের ব্যবসার উপার্জিত অর্থ এবং বাবা-মায়ের সামান্য কিছু সহায়তার মাধ্যমেই ক্রয় করেছে। তার আচার-আচরণে কোনো রকম অহংকার বা কৃত্রিম প্রদর্শনী ছিল না, বরং নিজের কঠোর পরিশ্রমের প্রতি এক বুক গর্ব স্পষ্ট ফুটে উঠছিল।

গন্তব্যে পৌঁছানোর পর রাইড শেষ হতেই হাসিমুখে ওই যুবক জানাই যে, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে এবং বিভিন্ন বড় ইভেন্ট সফলভাবে পরিচালনা করতে তার দারুণ ভালো লাগে। একজন সাধারণ অপরিচিত যুবকের এমন দুর্দান্ত ইতিবাচক মনোভাব ও জীবনবোধের গল্প সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে আশিস জৈন লিখেছেন যে, জীবনে অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য সবসময় কোনো বড় মাপের সিইও বা বিখ্যাত লেখকের প্রয়োজন হয় না, অনেক সময় পথচলতি কোনো সাধারণ অচেনা মানুষের জীবন থেকেও অনেক বড় শিক্ষা পাওয়া সম্ভব। বড় স্বপ্ন দেখা যেমন জরুরি, ঠিক তেমনই সেই স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রবল মানসিক জোর থাকা দরকার।