বিদেশ থেকে তেল আমদানিতে জলের মতো টাকা খরচ বন্ধ! ‘গোবরধন’ প্রকল্পে কত কোটি বাঁচবে জানলে চমকে যাবেন!

দেশের আমদানির ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা নাটকীয়ভাবে হ্রাস করতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় সম্প্রতি অনুমোদিত অত্যন্ত দূরদর্শী ‘গোবরধন’ বা জাতীয় সার্কুলার বায়ো-এনার্জি প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতিতে বিশাল বিপ্লব আসতে চলেছে। এই মেগা প্রকল্পের হাত ধরে আগামী দিনে ভারত ৪০,০০০ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগটি দেশের মোট দেশীয় উৎপাদন বা জিডিপি-তে ৭৫,০০০ কোটি টাকারও অধিক অনুদান জোগাবে এবং দেশজুড়ে প্রায় দেড় লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক দশকে দেশজুড়ে কম্প্রেসড বায়োগ্যাস বা সিবিজি-র উৎপাদন প্রায় দশ গুণ বৃদ্ধি করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন বেসরকারি বিনিয়োগ কর্পোরেট ক্ষেত্র থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে আকৃষ্ট হবে, তেমনই সার্কুলার বায়ো-ইকোনমির চাকা আরও দ্রুত গতিতে ঘুরবে। উৎপাদকদের জন্য একটি সুসংহত বাজার নিশ্চিত করতে বিশেষ ‘সিবিজি অফটেক অ্যাসুরেন্স ফ্রেমওয়ার্ক’ চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে উৎপাদিত সবুজ ও দেশীয় গ্যাস দেশের প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা অনেকটাই কমিয়ে আনবে। সরকারের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি মেট্রিক টন বা ১ কোটি টন জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে।

পরিবেশ সুরক্ষার দিক থেকেও এই প্রকল্প এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে চলেছে। জৈব বর্জ্য পদার্থগুলিকে আবর্জনার স্তূপে বা ল্যান্ডফিলে যাওয়া থেকে আটকানোর ফলে প্রায় ৪ কোটি টনেরও বেশি ক্ষতিকারক কার্বন ডাইঅক্সাইড বা সিও২ নির্গমন কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি, কৃষিক্ষেত্রের জন্য অত্যন্ত উপযোগী প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মেট্রিক টন উচ্চমানের জৈব সার উৎপাদিত হবে, যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করে তুলবে। সিবিজি উৎপাদনকারীদের গ্যাসের নির্দিষ্ট বাজারমূল্য ও বিক্রির নিশ্চয়তা দিতে সরকার প্রতি এমএমবিটিইউ ২,১১০ টাকা নির্ধারিত মূল্য ধার্য করেছে। তাছাড়া, প্লান্ট স্থাপনে প্রতি টন প্রতিদিন ক্ষমতার বিপরীতে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধন সহায়তা এবং ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা দেওয়া হবে।

পরিবহন, গৃহস্থালি, শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা যেভাবে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে এই দেশীয় বায়োগ্যাস দেশের শক্তির চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সিবিজি রাসায়নিক গঠনের দিক থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের সমতুল্য হওয়ায় একে দেশের বিদ্যমান গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে কোনো বড় পরিবর্তন ছাড়াই সহজে যুক্ত করা সম্ভব। গ্রামীণ স্তরে কৃষি অবশিষ্টাংশ, পশুর বর্জ্য এবং অন্যান্য জৈব আবর্জনা ব্যবহার করে এই সিবিজি প্লান্টগুলি পরিচালিত হবে, যা স্থানীয় স্তরে সাপ্লাই চেইন, পরিবহন ও সার উৎপাদনে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি করবে। বর্তমানে ‘গোবরধন ইউনিফাইড রেজিস্ট্রেশন পোর্টাল’-এর মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ১,৯০৮টি সিবিজি প্লান্ট নিবন্ধিত হয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ।