মণিপুর হিংসায় এন বীরেন সিংয়ের অডিও ক্লিপ ভুয়ো! সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরণ ঘটাল কেন্দ্র!

মণিপুরের জাতিগত হিংসার ঘটনায় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের নাম জড়িয়ে যে চাঞ্চল্যকর অডিও রেকর্ডিং প্রকাশ্যে এসেছিল, তা সম্পূর্ণ বিকৃত বলে দাবি করল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে কেন্দ্র জানাল যে ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টে পরিষ্কার প্রমাণিত হয়েছে ওই অডিও ক্লিপটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে কারচুপি করা হয়েছে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ওই সংক্রান্ত সমস্ত তদন্তের আবেদন দ্রুত খারিজ করার জোরালো আর্জি জানিয়েছে কেন্দ্র।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চে কেন্দ্রের পক্ষে সওয়াল করেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্যা ভাটি। গান্ধীনগরের ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি বা এনএফএসইউ-এর একটি গোপন রিপোর্টের কথা তুলে ধরে তিনি জানান যে, অডিও রেকর্ডিংটিতে অন্তত একচল্লিশ বার কাটছাঁট করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি বা সিএফএসএল বিশেষজ্ঞদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তিনি আদালতে দাবি করেন, আবেদনকারীর জমা দেওয়া দীর্ঘ অডিও ক্লিপটি আদতে একটি এডিটেড এবং বিকৃত সংস্করণ।
আবেদনকারী সংস্থা ‘কুকি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস ট্রাস্ট’-এর আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ অবশ্য কেন্দ্রের এই ফরেনসিক রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। তিনি ‘ট্রুথ ল্যাবস’-এর একটি পুরনো রিপোর্টের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন যে, ওই অডিওর কণ্ঠস্বরের সঙ্গে বাস্তব স্বরের তিরানব্বই শতাংশ মিল রয়েছে। উভয় পক্ষের এই সওয়ল-জবাবের পর আদালত নির্দেশ দেয় যে, এনএফএসইউ-এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডঃ সুরভি মাথুরের তৈরি ছয় পাতার নতুন রিপোর্টটির একটি অনুলিপি যেন দ্রুত আবেদনকারী ও কেন্দ্র উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এর পরেই মামলার পরবর্তী শুনানি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মণিপুরের এই মামলায় মূল হাতিয়ার করা হয়েছিল একটি বিতর্কিত অডিও টেপকে। কুকি সংগঠনের অভিযোগ ছিল, ২০২৩ সালের ভয়াবহ জাতিগত হিংসার সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং নাকি নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে তিনি বিদ্রোহে উসকানি দিয়েছিলেন এবং অস্ত্র লুণ্ঠনকারীদের আড়াল করেছিলেন। এই অডিওর সত্যতা যাচাই করতে গত বছর সুপ্রিম কোর্ট এনএফএসইউ-কে নির্দেশ দিয়েছিল। প্রথম দফায় সংক্ষিপ্ত ক্লিপ পরীক্ষার পর সঠিক তথ্য মেলেনি। পরে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ছাব্বিশ মিনিটের সম্পূর্ণ অডিও টেপ জমা দিলে আদালত ফের তা পরীক্ষার নির্দেশ দেয়, যার সাম্প্রতিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।