“ঝাণ্ডা লাগানোই কি অপরাধ?” মাঝরাস্তায় রক্তে ভাসলেন বিজেপি কর্মী, মধ্যমগ্রামের পর এবার রণক্ষেত্র বসিরহাট

ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই অশান্তির আগুনে পুড়ছে বাংলা। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রক্ত ঝরল বসিরহাটে। বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার গোডাউন পাড়া এলাকায় রোহিত রায় নামে এক বিজেপি কর্মীকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাল দুষ্কৃতীরা। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে চালানো এই গুলিতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই যুবক। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

রোহিতকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় বসিরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাঁর শরীরের একাধিক জায়গায় গুলির ক্ষত থাকায় এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত কলকাতার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে কলকাতার হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতেই হাসপাতালের বিছানা থেকে এক চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দিয়েছেন আহত রোহিত। মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো অবস্থাতেই তিনি জানান, পাড়ায় দলীয় পতাকা লাগানোর কারণেই তাঁকে সরাতে চেয়েছিল দুষ্কৃতীরা।

রোহিতের বয়ান অনুযায়ী, “আমরা পাড়ায় বিজেপির ঝাণ্ডা লাগাচ্ছিলাম। সেই সময় দেখি ১০-১২ জনের একটি গ্যাং সশস্ত্র অবস্থায় আমাদের দিকে তেড়ে আসছে। বিপদ বুঝে আমি পালানোর চেষ্টা করতেই তারা পিছন থেকে আমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।” জবানবন্দিতে তিনি সরাসরি অভিযুক্তদের নামও উল্লেখ করেছেন। রোহিতের দাবি, ‘বড়’, ‘জাইনুল’, ‘সন্টু’, ‘উজ্জ্বল’ ও ‘ভোলা’ নামে কয়েকজন দুষ্কৃতী এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে। তারা সকলেই শাসকদল তৃণমূল আশ্রিত এবং পরিকল্পিতভাবে খুনের উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালিয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, বসিরহাটে বিজেপির ক্রমবর্ধমান শক্তি দেখে ভীত হয়েই সন্ত্রাসবাদ শুরু করেছে তৃণমূল। তাদের দাবি, কর্মীদের মনোবল ভাঙতেই এই ধরনের ‘শুট আউট’ চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়েছে যে, এটি কোনো রাজনৈতিক ঘটনা নয় বরং ব্যক্তিগত বিবাদের ফল হতে পারে।

বসিরহাট থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে। আহত রোহিতের দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বুধবার রাতেই মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথকে সাদা স্করপিও গাড়ির ভিতর গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। একের পর এক এই ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy