জ্বালানি সংকটে এবার বড় ভরসা ভারত-জাপান বন্ধুত্ব! নতুন চুক্তিতে মিলবে কী কী সুবিধা?

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল ভারত ও জাপান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির প্রথম ভারত সফরকালে দুই দেশ একটি কৌশলগত জ্বালানি অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির ফলে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুক্তির মূল উদ্দেশ্য: বর্তমান জটিল পরিস্থিতিতে উভয় দেশই তেল ও গ্যাসের সাশ্রয়ী, নিরাপদ এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই চুক্তির ফলে ভারত ও জাপানের জ্বালানি চাহিদা দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত থাকবে এবং সরবরাহ সংক্রান্ত ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে।

এই অংশীদারিত্ব থেকে ভারত যেভাবে উপকৃত হবে:

  • কৌশলগত তেল ভাণ্ডার: কৌশলগত তেল মজুত (Strategic Petroleum Reserve) বাড়ানোর ক্ষেত্রে জাপান তাদের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা ভারতের সাথে শেয়ার করবে। জরুরি প্রয়োজনে বা সংকটের সময় এই মজুত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

  • যৌথ বিনিয়োগ: ভারত ও জাপান তৃতীয় কোনো দেশে যৌথভাবে তেল ও গ্যাস প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে। এর ফলে নতুন জ্বালানি উৎসের সন্ধান পাওয়া সহজ হবে।

  • আমদানিকারক দেশগুলোর জোট: বিশ্ববাজারে তেল আমদানিকারক দেশগুলোর কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করবে এই দুই দেশ। জ্বালানি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান এবং নতুন উৎস খোঁজার ক্ষেত্রে ভারত আরও সুবিধা পাবে।

  • সামুদ্রিক নিরাপত্তা: সমুদ্রপথে তেল ও গ্যাস পরিবহনকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করতে উভয় দেশ পরিকাঠামো উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে।

প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা: ভারতের ‘ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভস লিমিটেড’ (ISPRL) এবার জাপানের ‘JOGMEC’ এবং ‘JBIC’-এর সাথে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা বাড়াবে। এর ফলে ভারতের জ্বালানি খাতে উন্নত প্রযুক্তি আসবে এবং বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হবে।

পরবর্তী পদক্ষেপ: উভয় দেশের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের একটি ‘যৌথ কার্যনির্বাহী গোষ্ঠী’ নিয়মিত বৈঠক করবে। এই বৈঠকে চুক্তির অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং নতুন সুযোগগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

নিঃসন্দেহে, এই চুক্তি শুধু ভারত ও জাপানের জন্যই নয়, বরং সামগ্রিক এশীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থিতিশীলতার জন্য একটি মাইলফলক হতে চলেছে।