জ্বালানি রপ্তানিতে বড় পরিবর্তন! ডিজেল ও এটিএফ-এর উইন্ডফল ট্যাক্স বাড়াল কেন্দ্র

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিশ্বজুড়ে অশোধিত তেলের দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারত সরকার উইন্ডফল ট্যাক্স (Windfall Tax) কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, পেট্রোল রপ্তানিতে স্বস্তি মিললেও, ডিজেল এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই নিয়ম চলতি বছরের ১৬ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডিজেলের ওপর রপ্তানি শুল্ক লিটার প্রতি ৮.৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫.৫ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে, বিমানের জ্বালানি বা এটিএফ (ATF)-এর ওপর রপ্তানি শুল্ক লিটার প্রতি ৭.৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪.৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, পেট্রোল রপ্তানির ওপর শুল্ক লিটার প্রতি ৪ টাকা থেকে কমিয়ে ২.৫ টাকা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি ১৫ দিন অন্তর এই করের হারের পর্যালোচনা করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এবং দেশের তেল কোম্পানিগুলোর কর্পোরেট মুনাফার ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই উইন্ডফল ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়।
চলতি বছরের জুলাই মাসে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এপ্রিল থেকে জুন মাসের ক্রমাগত দরপতনের ধারাকে থামিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৪.৭৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্ববাজারে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের ঝুঁকি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।
উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এটিএফ-এর দাম লিটার প্রতি প্রায় ৫ টাকা কমিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানির যোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় সরকার রাজস্ব সুরক্ষার স্বার্থে এই নতুন ট্যাক্স কাঠামো কার্যকর করল। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা না কমলে জ্বালানির বাজারে এই অস্থিরতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে অভ্যন্তরীণ তেল বিপণন সংস্থাগুলোর ওপর। আপাতত সরকারের এই পদক্ষেপ দেশীয় বাজারে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মুনাফাখোরি রুখতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।