অনুমতি ছাড়াই শ্যুটিং! আমির খানের ছবির নেপথ্যে থাকা সোনম ওয়াংচুক কেন পাননি যোগ্য সম্মান?

বলিউডের কালজয়ী সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়েটস’। আমির খান অভিনীত ‘ফুনসুক ওয়াংডু’ চরিত্রটির সঙ্গে বাস্তবের শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের মিল খুঁজে পাননি এমন দর্শক মেলা ভার। সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই চারিদিকে প্রচার হয়েছিল যে, এই চরিত্রটি মূলত সোনম ওয়াংচুকের জীবনের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি। কিন্তু বাস্তবের সোনম ওয়াংচুক এই সিনেমার সাফল্য থেকে নিজেকে সবসময় সযত্নে দূরেই রেখেছেন। একাধিকবার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন যে, এই সিনেমার সঙ্গে তাঁর কোনো সরাসরি যোগ নেই এবং নির্মাতারা এই চরিত্র তৈরির সময় তাঁর থেকে কোনো অনুমতি বা পরামর্শ পর্যন্ত নেননি।
সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, ‘থ্রি ইডিয়েটস’ তৈরির আগে নির্মাতারা তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনা করা তো দূরের কথা, বিষয়টি তাঁকে জানানো পর্যন্ত প্রয়োজন মনে করেননি। এমনকি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিনেমার শ্যুটিংয়ের জন্য তাঁর স্কুলের অনুমতি চাওয়ার পর, পরিবেশের ক্ষতি হবে বলে তিনি তা নাকচ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায়, তাঁর অনুমতি ছাড়াই অন্য একটি স্কুলে ওই শ্যুটিংটি সম্পন্ন করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত অস্বস্তিকর হলেও, তৎকালীন সময়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে উচ্চবাচ্য করেননি।
কেন চুপ ছিলেন তিনি? সোনম জানান, সেই সময়ে সিনেমাটি ব্যাপক সাফল্য অর্জন করছিল এবং সবাই যখন তা উদযাপনে ব্যস্ত, তখন তিনি এই প্রতিবাদ তুললে মানুষ ভাবত তিনি বোধহয় আর্থিক লাভের জন্য এই অভিযোগ করছেন। তবে পরবর্তীতে তিনি এ নিয়ে নির্মাতাদের একটি চিঠি লিখেছিলেন, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই চিঠির কোনো উত্তর তিনি পাননি।
‘কোন বনেগা ক্রোড়পতি’-র মঞ্চে এসে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, ছবিতে তাঁর জীবনের ছায়া থাকতে পারে, কিন্তু এটি তাঁর প্রকৃত জীবনকাহিনি নয়। তিনি চেয়েছিলেন যুদ্ধের গল্প না বলে শান্তি ও শিক্ষার গল্প তুলে ধরা হোক। এমনকি ২০০৮ সালে আমির খানের সঙ্গে তাঁর আলাপ হওয়ার সময় তিনি সিয়াচেন সীমান্ত নিয়ে একটি সিনেমা তৈরির পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন।
সোনম ওয়াংচুকের এই অভিজ্ঞতায় উঠে আসে গ্ল্যামার দুনিয়ার পর্দার আড়ালের এক নির্মম বাস্তব। যেখানে একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদের জীবনের দর্শনকে ব্যবহার করে সিনেমা তৈরি করা হয়, কিন্তু তাঁকে যথাযথ সম্মান বা স্বীকৃতির বিনিময়ে দেওয়া হয় অবহেলা। আজও যখন ‘থ্রি ইডিয়েটস’ নিয়ে আলোচনা হয়, তখন সোনম ওয়াংচুকের এই অপ্রিয় সত্যগুলো মনে করিয়ে দেয় যে, বাস্তবের শিক্ষাবিদ আর সিনেমার চরিত্রের মধ্যে ফারাক আকাশ-পাতাল।