ভোপালের মডেল ও অভিনেত্রী ত্বিশা শর্মা রহস্যমৃত্যু মামলায় তদন্তের উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই হাই-প্রোফাইল মামলার প্রধান অভিযুক্ত সমর্থ সিং বর্তমানে ভোপাল সেন্ট্রাল জেলে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় রিমান্ডে রয়েছেন। বিলাসবহুল জীবন থেকে এক ধাক্কায় কয়েদি নং ১৭৮২-তে পরিণত হওয়া সমর্থ এখন আদালতের নির্দেশনায় জেলবন্দি। পায়ে আঘাতের কারণে বর্তমানে তিনি জেলের মেডিকেল ওয়ার্ডে কড়া নিরাপত্তার অধীনে চিকিৎসাধীন। সাধারণ বিচারাধীন বন্দীদের মতোই তার দিন কাটছে জেলের কঠোর নিয়মে, কিন্তু তার দিনযাপনের এক অন্যরকম চিত্র সামনে এসেছে, যা অপরাধ বিশেষজ্ঞদের কৌতূহল বাড়াচ্ছে।
কারাগারের একাকীত্ব ও মানসিক চাপ কাটাতে সমর্থ সিং এখন বইয়ের পাতায় ডুবে থাকছেন। বর্তমানে তার হাতে রয়েছে লেখক দেবদত্ত পট্টনায়কের সাড়া জাগানো পৌরাণিক উপন্যাস ‘দ্য প্রেগন্যান্ট কিং’। মহাভারতের পটভূমিতে ইক্ষ্বাকু বংশের রাজা যুবানশ্বের এই গল্পটি লিঙ্গীয় পরিচয়, মাতৃত্ব এবং সামাজিক রীতিনীতির জটিল মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ। একজন রাজা হয়েও সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো অস্বাভাবিক ও অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া যুবানশ্বের এই কাহিনি সমর্থের মনোজগতে ঠিক কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
তবে শুধু পৌরাণিক কাহিনি নয়, সিবিআই রিমান্ডের সময় থেকেই সমর্থকে দেখা গিয়েছে ক্রাইম থ্রিলার বইয়ের প্রতি আসক্ত হতে। গ্রেফতারের সময় ও জিজ্ঞাসাবাদের ফাঁকে তার কাছে পাওয়া গিয়েছিল জাপানি লেখিকা আসাকো ইউজুকির বিখ্যাত উপন্যাস ‘বাটার’। এই বইটি এক রহস্যময়ী মহিলার সত্য কাহিনি অবলম্বনে লেখা, যে ধনকুবের পুরুষদের প্রলুব্ধ করে অপরাধ জগতের অন্ধকার পথে টেনে নিত। একটি হত্যা রহস্যের আড়ালে মানসিক কারসাজি ও অপরাধীর সূক্ষ্ম মনস্তত্ত্ব ফুটে উঠেছে এই বইটিতে।
অপরাধ বিজ্ঞানীদের মতে, কারাগারে থাকাকালীন এই ধরনের বই পড়া কেবল সময় কাটানোর মাধ্যম নয়। বিচার বিভাগীয় হেফাজত, সিবিআই-এর কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘ কারাবাসের অনিশ্চয়তা যে কোনো মানুষের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। সমর্থ সিং সম্ভবত নিজেকে বাস্তব পরিস্থিতি থেকে সাময়িকভাবে দূরে রাখতে অথবা নিজের করা অপরাধের সমান্তরালে কোনো কাল্পনিক চরিত্রের মানসিক পরিস্থিতির সাথে একাত্মতা অনুভব করার চেষ্টা করছেন।
একসময়ের আভিজাত্য ও চাকচিক্যে ভরা জীবনযাপন করা সমর্থ সিং এবং তার মা প্রাক্তন বিচারপতি গিরিবালা সিং এখন জেলের কঠোর বাস্তবের মুখোমুখি। নারী ব্যারাকে বন্দি মা এবং মেডিকেল ওয়ার্ডের বিছানায় শুয়ে একের পর এক জটিল উপন্যাস শেষ করা ছেলে—এই দুই চরিত্রের জীবনের নাটকীয় পরিবর্তন এখন শহরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ত্বিশা শর্মা হত্যা মামলার তদন্তের পাশাপাশি সমর্থের এই বইপ্রীতি এবং তা থেকে তার মানসিক অবস্থার সমীকরণ মেলাতে এখন ব্যস্ত অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। জেল প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে দিন কাটাতে থাকা কয়েদি নং ১৭৮২-এর মনের ভেতরে এখন কোন রহস্য লুকিয়ে, তার উত্তর হয়তো মিলবে আগামী দিনের শুনানিতেই।





