ভারতের রাজনৈতিক ও শিক্ষাব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব সাড়া ফেলে দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট থেকে রাতারাতি জন্ম নেওয়া এই মঞ্চ এখন জেন-জি প্রজন্মের ক্ষোভের প্রতীক। আগামী ৬ জুন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন। এমন এক সন্ধিক্ষণে তরুণ প্রজন্মের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আন্দোলনের দিশা দেখালেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ লেখা এক খোলা চিঠিতে তারুর স্পষ্ট করেছেন, নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্ন ফাঁস বা সিবিএসই-র মতো নিয়োগ সংক্রান্ত কেলেঙ্কারিতে তরুণদের রাগ ও হতাশা শতভাগ যুক্তিযুক্ত। তারুরের কথায়, “পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বছরের পর বছর উৎসর্গ করা এক পড়ুয়ার কাছে সিস্টেমের এই ব্যর্থতা কেবল একটি শিরোনাম নয়, বরং একটি বড় বিশ্বাসঘাতকতা।” তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, এই ‘পচে যাওয়া ব্যবস্থা’র মানবিক অভিঘাতের ফলে যে আত্মহননের ঘটনা ঘটছে, তা সমাজের ভিতকে নাড়িয়ে দিচ্ছে।
আবেগ ও মিমের বাইরে এসে আন্দোলনের কৌশল পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন এই আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদ। তারুরের ৩টি পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১. জবাবদিহি: স্থানীয় বিধায়ক ও সাংসদদের অফিসের সামনে অভাব-অভিযোগের চিঠি জমা দিয়ে তাঁদের সংসদের ভেতর ও বাইরে বিষয়টি তুলতে বাধ্য করা।
২. আরটিআই-এর সদ্ব্যবহার: নিয়োগ বা পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে তথ্যের অধিকার আইন ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষের নীরবতা ভাঙা, যা তাঁদের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করবে।
৩. আন্দোলনের পেশাদারিকরণ: কেবল স্লোগান বা মিম নয়, আইনি লড়াইয়ের জন্য পিটিশন ড্রাফট ও আইনি যৌথ মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান।
তারুর তরুণদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, দেশের বর্তমান জনমিতির নিরিখে তারাই সংখ্যাগুরু। এই রাগ যেন ক্ষণস্থায়ী না হয়, বরং তা যেন সুসংগঠিত কৌশলে রূপান্তরিত হয়। তিনি বলেন, “তোমরা নিজেদের পছন্দের রাজনৈতিক দলের সাথে কাজ করো, এই ব্যবস্থার ভেতরে ঢুকে একে নতুন করে গড়ে তোলো। কারণ, তোমরা রাজি থাকো বা না থাকো, তোমরাই এই দেশের ভবিষ্যৎ।” উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের এক মন্তব্য থেকে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ব্যঙ্গাত্মক জন্ম হলেও, এখন এটি দেশের ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থীদের এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।





