জাতীয় স্তরে বাংলার জয়জয়কার, সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমির সম্মানে উজ্জ্বল পুরুলিয়ার ছৌ শিল্পীরা

ভারতের শিল্প ও সংস্কৃতির জগতে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল বাংলা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনে সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমির তরফে ২০২৪-২৫ সালের জন্য মর্যাদাপূর্ণ অ্যাকাডেমি পুরস্কার, অ্যাকাডেমি ফেলোশিপ (অ্যাকাডেমি রত্ন) এবং উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান যুব পুরস্কার প্রাপকদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের ১০৮ জন বিশিষ্ট শিল্পীর মধ্যে বাংলার একাধিক কৃতি শিল্পী জায়গা করে নিয়ে সারা দেশের সামনে রাজ্যের লোকশিল্প ও সংস্কৃতির উজ্জ্বল মুখ তুলে ধরেছেন।
পুরুলিয়ার ছৌ নৃত্যের বিশ্বজয়
বাংলার লোকশিল্পের অন্যতম গর্ব ছৌ নৃত্য। এবার এই শিল্পধারা থেকেই জাতীয় স্বীকৃতি ছিনিয়ে এনেছেন পুরুলিয়ার দুই শিল্পী। ২০২৪ সালের ছৌ নৃত্য বিভাগে অ্যাকাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকের বালিগাড়া গ্রামের বাসিন্দা নৃপেন সহিস। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান যুব পুরস্কার পাচ্ছেন বাঘমুন্ডি ব্লকের কুশলডি গ্রামের সোমনাথ। তাঁদের এই সাফল্য গ্রামীণ বাংলার শিল্পীদের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা।
পুরস্কারের বিবিধ ক্ষেত্র ও অন্যান্য বিজয়ীরা
শুধু লোকশিল্পই নয়, সঙ্গীত ও নাটকের জগতেও দাপট দেখিয়েছেন বাঙালি শিল্পীরা। সঙ্গীত বিভাগে ২০২৪ সালের অ্যাকাডেমি পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় (তবলা) এবং প্রভাতী মুখোপাধ্যায় (সুগম সঙ্গীত)। থিয়েটার বা নাটকের ক্ষেত্রে মঞ্চসজ্জার লাইটিং বিভাগে বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মান পেয়েছেন দীনেশ পোদ্দার। এছাড়াও থিয়েটার বা পরিবেশন শিল্পকলায় সামগ্রিক অবদানের জন্য ২০২৫ সালের উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান যুব পুরস্কার পাচ্ছেন সায়ক মিত্র ও আকাশ মল্লিক।
সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি: ঐতিহ্য ও গরিমা
১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি ভারতের পরিবেশন শিল্পের সর্বোচ্চ জাতীয় সংস্থা। সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনে থাকা এই প্রতিষ্ঠানটি ভারতের বৈচিত্র্যময় অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এবছর রামলাল বারেথ, এভি আনন্দ, রীতা গঙ্গোপাধ্যায় সহ সাতজন প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বকে ‘অ্যাকাডেমি রত্ন’ বা ফেলো হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। ফেলোশিপ অত্যন্ত বিরল ও সম্মানজনক, যা যেকোনো সময়ে মাত্র ৪০ জনকে প্রদান করা হয়ে থাকে।
পুরস্কারের মূল্যমান ও ভবিষ্যৎ অনুষ্ঠান
অ্যাকাডেমি পুরস্কার প্রাপকদের আর্থিক পুরস্কার হিসেবে এক লক্ষ টাকা, একটি তাম্রপত্র এবং অঙ্গবস্ত্র দেওয়া হয়। অ্যাকাডেমি ফেলোশিপের ক্ষেত্রে এই অর্থের পরিমাণ তিন লক্ষ টাকা। এছাড়া উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান যুব পুরস্কারের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা ও সংশ্লিষ্ট সম্মান প্রদান করা হয়। খুব শীঘ্রই ভারতের রাষ্ট্রপতি এক বিশেষ অভিষেক অনুষ্ঠানে এই বিশিষ্ট শিল্পীদের হাতে তাঁদের যোগ্য সম্মান তুলে দেবেন। বাংলা তথা সমগ্র ভারতের এই শিল্পীরা নিজেদের সাধনা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে লোকজ ও শাস্ত্রীয় সংস্কৃতির যে ধারা বহন করে চলেছেন, তা দেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।