‘নিখোঁজ’ সায়নী ঘোষের খোঁজ দিলেই পুরস্কার! যুব তৃণমূলের অন্দরে চরম অস্বস্তি

পশ্চিমবঙ্গ যুব তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রী তথা যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষের ভূমিকা নিয়ে দলের ভেতরে এখন চরম শোরগোল ও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে তাঁর ‘বেপাত্তা’ থাকা এবং দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ দলের একাংশ। এরই মধ্যে যুব তৃণমূলের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সায়নী ঘোষের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি কাগজ পোস্ট হওয়ার পর পরিস্থিতি বিস্ফোরক আকার ধারণ করেছে।
তৃণমূলের অন্দরের অংকের হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন বলেই পরিচিত সায়নী। এমনকি অনেকে তাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ধারার অনুসারী হিসেবেও দেখতেন। সংগঠনের পুরনো কমিটি ভেঙে সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের সায়নী ঘোষের হাতেই যুব তৃণমূলের গুরুদায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার পরও তাঁর এই নীরবতা ও দীর্ঘ অনুপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে সন্দেহের দানা বেঁধেছে।
শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়া এবং দলের অন্দরে একটি তালিকার ছবি ভাইরাল হয়, যেখানে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের নামের পাশে সায়নী ঘোষের সই দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই যুব তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে। যদি ওই সই সত্যিই সায়নী ঘোষের হয়, তবে তিনি কেন দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ যুব নেতারা। এমনকি, দলের অফিসিয়াল গ্রুপেই কেউ কেউ সায়নী ঘোষের ‘নিখোঁজ’ রহস্য সমাধান করার জন্য পুরস্কারের ঘোষণাও করেছেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে যখন বৃহস্পতিবার সায়নী ঘোষকে কলকাতা বিমানবন্দরে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। এরপর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। যুব নেতা মৃত্যুঞ্জয় পাল সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, “সংবাদমাধ্যমে আমরা সায়নী ঘোষের স্বাক্ষরের ছবি দেখছি বিদ্রোহী গ্রুপে। অথচ তিনি দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। নেত্রী তাঁকে সংগঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই ওনার পরিষ্কার করা উচিত তিনি আসলে কার সঙ্গে আছেন।”
দলের অন্দরে এমন পরিস্থিতি যখন তুঙ্গে, তখন শুক্রবার রাতে তৃণমূলের তরফে একটি বড় ঘোষণা করা হয়। জানানো হয়, মালা রায়ের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন আলিফা আহমেদ। তবে যুব তৃণমূলের সভানেত্রী পদে সায়নী ঘোষের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত বার্তা এখনও আসেনি। দলের একটি বড় অংশ মনে করছে, সায়নী ঘোষের এই নীরবতা এবং ‘সই’-এর ঘটনা আদতে দলের ভেতর বড় কোনো ভাঙ্গনের ইঙ্গিত। সায়নী কি ইস্তফা দেবেন, নাকি তিনি প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবেন—সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।