জাতীয় সঙ্গীত ও বন্দে মাতরম নিয়ে বড় নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের! মানতে হবে নতুন প্রোটোকল

ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ এবং জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’—উভয়ের গাওয়ার বা বাজানোর ক্ষেত্রে নতুন নিয়মাবলী ও প্রোটোকল জারি করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। দেশের মর্যাদা রক্ষায় এখন থেকে এই গানগুলো গাওয়ার সময় সঠিক উচ্চারণ ও শুদ্ধ বাচনভঙ্গি (Diction) বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছে: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে এই গানগুলো গাওয়ার বা বাজানোর সময় কঠোর প্রোটোকল মানতে হবে। মন্ত্রক তাদের ওয়েবসাইটে সঠিক পাঠ ও উচ্চারণের নির্দেশিকাও দিয়ে দিয়েছে।
বন্দে মাতরম কখন গাওয়া হবে?
রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল/লেফটেন্যান্ট গভর্নরের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে আগমন ও প্রস্থানকালে।
কুচকাওয়াজে জাতীয় পতাকা আনার সময়।
অল ইন্ডিয়া রেডিও এবং টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার ঠিক আগে ও পরে।
জাতীয় সঙ্গীত ও রাষ্ট্রীয় গানের নিয়ম: ১. ক্রমবিন্যাস: যদি কোনো অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত ও রাজ্য সঙ্গীত উভয়ই বাজানো হয়, তবে প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হবে। আবার জাতীয় সঙ্গীত ও ‘বন্দে মাতরম’ দুটিই গাওয়ার প্রয়োজন হলে, প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হবে। ২. সময়সীমা ও স্তবক: সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীতের ছয়টি স্তবক গাইতে হবে, যার সময়সীমা হবে তিন মিনিট দশ সেকেন্ড। ৩. শ্রদ্ধা ও শিষ্টাচার: যে কোনো অনুষ্ঠানে এই গানগুলি গাওয়ার সময় উপস্থিত সকলকে স্যালুট জানাতে হবে। এছাড়া গণসংগীতের ক্ষেত্রেও মাতৃভূমির প্রতি যথাযথ শিষ্টাচার বজায় রাখা আবশ্যিক।
কেন এই কড়াকড়ি? ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা মাথায় রেখে ১৯৫০ সালে একে ‘জনগণমন’-এর সমান মর্যাদা দেওয়া হয়। মন্ত্রকের দাবি, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাতে কোনো অস্পষ্টতা না থাকে এবং জাতীয় প্রতীকের সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে, তার জন্যই এই স্বচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
এখন থেকে ভারতের যে কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। প্রোটোকল অনুযায়ী এই গানগুলো গাওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রকের দেওয়া অফিশিয়াল লিপি ও উচ্চারণ অনুসরণ করা এখন থেকে বাধ্যতামূলক।