দিল্লির ধাঁচে কি বাংলাতেও আসছে স্মার্ট কার্ড? বাসযাত্রা নিয়ে বড় ঘোষণা সরকারের!

বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিয়মে এক বড়সড় পরিবর্তনের পথে দিল্লি সরকার। এতদিন মহিলা যাত্রীরা পরিচয়পত্র বা গোলাপি ‘জিরো টিকিট’ দেখিয়ে যে সুবিধা পেতেন, তা ১ অগস্ট থেকে পরিবর্তিত হতে চলেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ‘পিঙ্ক সহযোগী স্মার্ট কার্ড’ (Pink Sahayogi Smart Card) ছাড়া আর বিনামূল্যে বাসে যাতায়াত করা যাবে না।
পরিবর্তনের মূল বিষয়গুলো:
গোলাপি টিকিটের মেয়াদ শেষ: বর্তমানে প্রচলিত গোলাপি রঙের ‘জিরো টিকিট’ শুধুমাত্র ৩১ জুলাই পর্যন্ত বৈধ থাকবে। ১ অগস্ট থেকে আর এই টিকিট দেওয়া হবে না।
স্মার্ট কার্ড বাধ্যতামূলক: ডিটিসি (DTC) এবং ডিআইএমটিএস (DIMTS) বাসে যাতায়াতের সময় এখন থেকে এই বিশেষ স্মার্ট কার্ডটি বাসের ইলেকট্রনিক রিডারে ট্যাপ করতে হবে। সফল যাচাইয়ের পরেই মিলবে বিনামূল্যে ভ্রমণের অনুমতি।
কার্ডের বৈশিষ্ট্য: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মার্চ মাসে এই কার্ডটির উদ্বোধন করেন। কার্ডটিতে যাত্রীর ছবি, একটি ইউনিক আইডি এবং আধারের তথ্য সংযুক্ত থাকবে। এটি অনেকটা মেট্রো স্মার্ট কার্ডের মতোই কাজ করবে।
কার্ডের বহুমুখী সুবিধা: ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগের আওতায় তৈরি এই স্মার্ট কার্ডটি ভবিষ্যতে কেবল সরকারি বাসেই নয়, দিল্লি মেট্রো এবং রিজিওনাল র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (RRTS)-এও ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ, দিল্লির গণপরিবহনে একটি একক কার্ডই হবে পরিচয়পত্র ও ভ্রমণের পাস।
পশ্চিমবঙ্গের জন্য বার্তা: সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত মিলছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারও এই মডেলটি অনুসরণ করতে পারে। বর্তমানে এ রাজ্যে মহিলারা বৈধ পরিচয়পত্র (আধার বা ভোটার কার্ড) দেখিয়ে বাসে বিনামূল্যে ভ্রমণ করেন। ভবিষ্যতে সেই সনাতন পদ্ধতির বদলে পশ্চিমবঙ্গেও স্মার্ট কার্ডভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
যাত্রীদের জন্য পরামর্শ: যাঁরা এখনও এই ‘পিঙ্ক সহযোগী স্মার্ট কার্ড’ সংগ্রহ করেননি, তাঁদের দ্রুত নিকটবর্তী কেন্দ্র থেকে তা করিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। কার্ড ছাড়া বাসে উঠলে সাধারণ যাত্রী হিসেবেই নির্ধারিত ভাড়া প্রদান করতে হবে।