স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট! মালদার কনটেন্ট ক্রিয়েটারের গ্রেপ্তারের দাবিতে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি

দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে উত্তাল মালদা। অভিযুক্ত এক মহিলা কনটেন্ট ক্রিয়েটারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে।
অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ভিডিওতে বাংলাদেশ সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কুরুচিকর ও অপমানজনক মন্তব্য করেন ওই তরুণী। এই ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসতেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো সাংবিধানিক পদমর্যাদার ব্যক্তিকে নিয়ে এমন অশালীন শব্দ ব্যবহার কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণই নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী এবং দেশের সংস্কৃতির অপমান।
তড়িঘড়ি বিজেপি প্রতিনিধি দল মালদা থানায় গিয়ে ওই মহিলা কনটেন্ট ক্রিয়েটারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেয়। গেরুয়া শিবিরের সাফ হুঁশিয়ারি, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ যদি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার না করে, তবে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবেন তাঁরা। বিজেপি নেতাদের দাবি, এই ধরণের অশালীন মন্তব্য সমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত মহিলার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে। আপাতত ওই মহিলার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, ঘটনার পর থেকে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় নন বলেই জানা যাচ্ছে।
বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকলেই যে কাউকে গালিগালাজ করা যায় না, তা এই অভিযুক্তকে বুঝিয়ে দিতেই হবে। পুলিশ প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি তর্কে জড়িয়েছে, যা স্থানীয় স্তরে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে প্ররোচণামূলক পোস্টে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে।