সমুদ্রের নতুন ত্রাস! নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হলো অত্যাধুনিক স্টেলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’

ভারতের নৌ-শক্তির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। পূর্ব নৌবহরে (Eastern Fleet) আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক স্টেলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাহাজটিকে নৌবাহিনীতে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন ও ইস্টার্ন নেভাল কম্যান্ডের ফ্ল্যাগ অফিসার কম্যান্ডিং-ইন-চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় ভাল্লাসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা।
প্রজেক্ট ১৭এ-র সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক
‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’ হলো প্রজেক্ট ১৭এ (Project 17A)-র অধীনে নির্মিত ষষ্ঠ যুদ্ধজাহাজ, যা গত মাত্র দেড় বছরের মধ্যে নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো। এর আগে নীলগিরি, উদয়গিরি, হিমগিরি, তারাগিরি ও দুনাগিরি রণতরীগুলো নৌবহরের অংশ হয়েছে। মুম্বইয়ের মাজগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL)-এর দক্ষ প্রকৌশলী এবং নৌবাহিনীর ‘ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো’-র নকশায় তৈরি এই জাহাজটির ৭৫ শতাংশ যন্ত্রাংশই ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত। জাহাজ নির্মাণ শিল্পের গতি বাড়াতে ভারত যে কতটা এগিয়েছে, তা এই প্রজেক্টের কর্মদক্ষতা দেখলেই স্পষ্ট হয়—আগের তুলনায় এর নির্মাণ সময় ২০ শতাংশ এবং ডেলিভারি সময় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
শক্তির উৎস: ব্রহ্মোস থেকে সাবমেরিন বিধ্বংসী ক্ষমতা
পূর্বঘাট পর্বতমালার নামানুসারে রাখা ‘মহেন্দ্রগিরি’ জাহাজটির মূলমন্ত্র হলো— ‘মাইটি, ম্যাজেস্টিক, ম্যাচলেস’। ৬,৬৭০ টন ওজনের এই দানবীয় রণতরীটি সর্বোচ্চ ২৮ নট গতিবেগে ছুটে শত্রুপক্ষকে ধূলিসাৎ করতে সক্ষম। এতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগামী ক্রুজ মিসাইল ‘ব্রহ্মোস’। এছাড়াও, আকাশসীমা রক্ষার জন্য এতে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক মাল্টিফাংশন রাডার এবং মাঝারি পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল। সাবমেরিন ধ্বংসের জন্য এতে রয়েছে শক্তিশালী টর্পেডো ও রকেট লঞ্চার। নজরদারি বা জরুরি উদ্ধারকাজের (HADR) জন্য এতে রয়েছে মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার রাখার ব্যবস্থা।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বার্তা: আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সনাতনী শক্তির সমন্বয়
অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “ভবিষ্যতের যুদ্ধ হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে লড়া হবে, তবে চূড়ান্ত জয় আসবে জাতীয় সংকল্প এবং নির্ভরযোগ্য সামরিক শক্তির মাধ্যমে।” তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ড্রোন, এআই বা হাইপারসনিক অস্ত্রের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে ভারত যেমন বিনিয়োগ করছে, তেমনই প্রথাগত সামরিক শক্তিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ‘অপারেশন উর্জা সুরক্ষা’-র মাধ্যমে ৯ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষা করে নৌবাহিনী নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছে। ‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’-র অন্তর্ভুক্তিতে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অবস্থান এখন আগের চেয়ে কয়েকগুণ শক্তিশালী। এটি শুধু একটি যুদ্ধজাহাজ নয়, বরং ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার এক জীবন্ত প্রতীক।