‘৯ বছরে কোনো দাঙ্গা-কারফিউ নেই’, উত্তরপ্রদেশের রূপরেখা বদলালেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ!

উত্তরপ্রদেশের কুশীনগরে এক ঐতিহাসিক জনসভায় যোগ দিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ৪৬৪টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন। রামকোলা, হাটা এবং কুশীনগর বিধানসভা কেন্দ্রজুড়ে রাস্তা, বিদ্যুৎ এবং পানীয় জলের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে এই প্রকল্পগুলো মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে তিনি জানান। কুশীনগরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভগবান রাম, গৌতম বুদ্ধ এবং মহাবীরের এই পুণ্যভূমিকে অতীতে রাজনৈতিক অবহেলার কারণে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।
জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী তীব্র আক্রমণ করেন পূর্ববর্তী সরকারগুলোর বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “আগে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সদিচ্ছার অভাবে কুশীনগর পশ্চাৎপদতা ও মারণব্যাধি এনসেফালাইটিসের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। বিআরডি মেডিকেল কলেজে আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশই থাকত কুশীনগরের। পূর্ববর্তী সরকারগুলোর কোনো সহানুভূতি ছিল না, মুসাহর সম্প্রদায়ের মানুষ না খেয়ে মারা যেত, কিন্তু কেউ খোঁজ নেওয়ার ছিল না।”
উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ৯ বছরে উত্তরপ্রদেশে কোনো দাঙ্গা হয়নি, কারফিউ জারি হয়নি। সমস্ত উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। বর্তমান সরকার সমাজের শেষ প্রান্তে থাকা মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে। অনুষ্ঠানে তিনি ১০০ বছর অতিক্রান্ত বিজেপির দুই প্রবীণ কর্মী রামবিলাস ভগৎ এবং রাম প্রবেশ সাহনিকে সম্মানিত করেন। শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়া সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন।
পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, দ্রুতই কুশীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু করা হবে এবং একে জেওয়ার বিমানবন্দরের সাথে সংযুক্ত করা হবে। এছাড়া নারায়ণী নদীর ওপারে থাকা দিয়ারা অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ মেটাতে ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সুবিশাল সেতু নির্মাণের কথা ঘোষণা করেন তিনি। কুশীনগরের যুবকদের জন্য নতুন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি চাকরির সুযোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, “আমরা সততার সাথে রাজ্যের প্রতিটি কোণায় উন্নয়নের আলো পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”