জল বসা ফোন বাঁচাতে চালের টোটকা কি ব্যবহার করছেন? জানুন গ্যাজেট বিশেষজ্ঞদের আসল সতর্কতা

স্মার্টফোন আজকাল আমাদের আধুনিক জীবনের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এক সঙ্গী, যা এক মুহূর্তের জন্যও হাতছাড়া করা যায় না। কিন্তু হঠাৎ যদি মুষলধারে বৃষ্টিতে ভিজে ফোনে জল চলে যায়, বা অসাবধানতাবশত হাত থেকে গলে বেসিন কিংবা বালতিতে পড়ে যায়, তবে ব্যবহারকারীদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। এমন অপ্রত্যাশিত বিপদে পড়ে বেশিরভাগ মানুষই একটি প্রচলিত ভুল কাজ চোখ বন্ধ করে করে থাকেন—ফোনটি সঙ্গে সঙ্গে তুলে সোজা রান্নাঘরের চালের ড্রামে বা চালের বস্তার ভেতরে গুঁজে দেন। আপনিও কি বৃষ্টিতে ভিজলে বা জলে পড়লে ফোন চালের পাত্রে রেখে দেন? যদি করে থাকেন, তবে এখনই এই বদভ্যাস থামান! গ্যাজেট বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ঘরোয়া এই টোটকা আদতে ফোনের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনে।

অনেকেই মনে করেন চাল আর্দ্রতা শুষে নেয়, কিন্তু চালের ড্রামে ভেজা ফোন রাখলে আসল সমস্যা তৈরি হয়। যদিও চাল শুকনো মনে হয়, তবে এর গায়ে সূক্ষ্ম চালের গুঁড়ো, অদৃশ্য ধূলিকণা এবং প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ লেগে থাকে। ভেজা ফোন যখন সরাসরি সেই চালের মধ্যে ফেলে রাখা হয়, তখন চালের সেই সূক্ষ্ম গুঁড়ো ফোনের চার্জিং পোর্ট, স্পিকার ও হেডফোন জ্যাকের সূক্ষ্ম ছিদ্রের ভেতরে ঢুকে জমাট বেঁধে যায়। পরবর্তীতে তা শুকিয়ে গিয়ে পোর্ট সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে ফোন আর কোনোভাবেই চার্জ নিতে চায় না অথবা স্পিকার চিরতরে বিকল হয়ে যাওয়ার মারাত্মক সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাছাড়া, চালে ফোন রেখে দিলে ভেতরের আটকে থাকা জল দ্রুত শুকায় না, ফলে স্যাঁতসেঁতে ভাবের কারণে ভেতরের ইলেকট্রনিক মাদারবোর্ডে জং বা মরিচা ধরে পুরো ফোনটিই চিরকালের মতো নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

তাই বৃষ্টিতে ভিজলে বা জলে পড়লে অন্ধের মতো চালের ভরসায় না থেকে সঙ্গে সঙ্গে এই তিনটি অত্যন্ত সহজ ও বিজ্ঞানসম্মত কাজ করুন:

প্রথমত, ফোনটি সাথে সাথে বন্ধ করে দিন এবং কভার খুলে ফেলুন। ফোন জলে ভেজার সঙ্গে সঙ্গেই কোনো মূহূর্ত নষ্ট না করে পাওয়ার অফ বা বন্ধ করে দিন। ভেজা অবস্থায় ফোনে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে ভেতরের সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশগুলো শর্ট সার্কিট হয়ে মুহূর্তে পুড়ে যেতে পারে। এরপর ফোনের পেছনের কভার, সিম কার্ড এবং মেমোরি কার্ড সঙ্গে সঙ্গে খুলে আলাদা করে ফেলুন।

দ্বিতীয়ত, একটি নরম ও শুকনো কাপড়ে ফোনটি মুছে স্বাভাবিক হাওয়ায় শুকোতে দিন। একটি শুকনো সুতি কাপড় দিয়ে ফোনের বাইরের জল খুব ভালোভাবে মুছে নিন। কিন্তু ভুলেও তাড়াতাড়ি শুকাতে গিয়ে হেয়ার ড্রায়ার বা কোনো ধরনের গরম হাওয়া ব্যবহার করবেন না! গরম হাওয়ার কারণে ফোনের ভেতরের সূক্ষ্ম প্লাস্টিকের পার্টস গলে গিয়ে হিতে বিপরীত হতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি ঘরের মধ্যে টেবিল ফ্যানের নিচে একটি শুকনো তোয়ালে বা খবরের কাগজের ওপর ফোনটি সম্পূর্ণ খুলে শুকোতে দেন। আপনার কাছে যদি নতুন জুতো বা হ্যান্ডব্যাগের বাক্সে থাকা সিলিকা জেলের ছোট প্যাকেট থাকে, তবে একটি এয়ারটাইট কৌটোয় কয়েকটা সিলিকা জেলের প্যাকেটের সঙ্গে ফোন রেখে দিন, কারণ এটি বাতাস থেকে দ্রুত আর্দ্রতা শুষে নেয়।

তৃতীয়ত, স্পিকার পরিষ্কার করুন এবং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধৈর্য। বৃষ্টির জলে স্পিকার আটকে গেলে সাউন্ড অস্পষ্ট বা বন্ধ শোনায়। এর জন্য বিশেষ ধরনের ওয়াটার রিমুভার সাউন্ড অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন, যা থেকে বিশেষ শব্দ তরঙ্গ তৈরি হয়ে স্পিকারের ভেতরে জমে থাকা জল ধাক্কা মেরে বাইরে বের করে দেয়। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো ধৈর্য! ফোনটি অন্তত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সম্পূর্ণ শুকাতে দিন। তার আগে কোনো অবস্থাতেই চার্জারে গুঁজে অন করার চেষ্টা করবেন না। হাতের কাছে থাকা এই সাধারণ সতর্কতা এবং একটু খানি সচেতনতাই আপনার দামি ফোনটিকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে পারে।