জলের বোতলে প্রস্রাব মেশানোর ভয়ংকর কাণ্ড! প্রতিবাদ করায় প্রধান শিক্ষক বললেন ‘চকলেট খেয়ে নাও’, উত্তাল স্কুল

দেশের এক সরকারি স্কুলে ঘটে যাওয়া এক অত্যন্ত অমানবিক ও লজ্জাজনক ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির দুই ছাত্রীর জলের বোতলে কয়েকজন ছাত্র ইচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব মিশিয়ে দিয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এই গুরুতর ঘটনার বিচার চাইতে ছাত্রীরা যখন স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়েছিল, তখন তিনি সম্পূর্ণ উদাসীন থেকে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। প্রধান শিক্ষক নাকি ছাত্রীদের সাফ জানিয়ে দেন যে জলের স্বাদ খারাপ লাগলে ১০ টাকার টফি বা চকোলেট কিনে খেয়ে নিতে হবে। শিক্ষাগুরুদের এমন সংবেদনশীলতাহীন আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, স্কুলে মিড-ডে মিলের বিরতি বা ক্লাসের ফাঁকে এই ঘটনা ঘটে। দুই ছাত্রী বাড়ি ফিরে পুরো বিষয়টি তাদের অভিভাবকদের খুলে বলে। মেয়ের মুখে এমন মর্মান্তিক ও অপমানজনক ঘটনার কথা শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। এরপরই তাঁরা দলবদ্ধভাবে স্কুলে এসে চড়াও হন এবং স্কুলের গেট বন্ধ করে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিভাবকদের বক্তব্য, ছোট শিশুদের সঙ্গে এমন জঘন্য মানসিকতার অপরাধ মেনে নেওয়া যায় না। এর ওপর স্কুলের প্রধান শিক্ষকের এহেন লঘু ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য তাঁদের আরও বেশি হতবাক ও ক্ষুব্ধ করেছে। অবিলম্বে অভিযুক্ত ছাত্র এবং উদাসীন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন তাঁরা।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে তড়িঘড়ি আসরে নামে প্রশাসন। অ্যারনের এসডিএম মঞ্জুষা খাত্রীর নির্দেশে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তহশিলদার এবং ব্লক শিক্ষা আধিকারিকরা। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের দল স্কুলে এসে ভুক্তভোগী ছাত্রী, তাদের পরিবার এবং অন্যান্য পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে পৃথকভাবে জবানবন্দি রেকর্ড করে। গুনা জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার কানিয়াল জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটি ওই ক্লাসেরই কিছু ছাত্রের কাজ বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। অভিযুক্ত ছাত্রদের অভিভাবকদের ইতিমধ্যেই তলব করা হয়েছে এবং ঘটনার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা চেয়ে প্রধান শিক্ষককে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে জেলা শিক্ষা আধিকারিক সমর সিং রাঠোর জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই প্রশাসনিক আধিকারিকদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। ব্লক শিক্ষা আধিকারিককে আগামী দুই দিনের মধ্যে একটি বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটও পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তদন্ত রিপোর্টে স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং গাফিলতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, এই ধরনের জঘন্য ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।