অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার বালাই নেই, একই ভবনে একাধিক হোটেল! মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে তোলপাড় কোন শহর?

গভীর রাতের অন্ধকারে আচমকাই নেমে এল এক মর্মান্তিক বিপর্যয়। আগুন লাগার খবর পেয়ে যখন ঘুম ভেঙেছিল আবাসিকদের, ততক্ষণে চারপাশে গ্রাস করেছে ঘন কালো ধোঁয়া। পালানোর পথ না পেয়ে দম আটকে অসহায় মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়তে হয়েছে একাধিক মানুষকে। খোদ দমকলের সদর দফতরের নাকের ডগায় কীভাবে বছরের পর বছর ধরে এমন বেআইনি কারবার চলছিল, তা নিয়ে এখন তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্যতম অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না ওই ভবনে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটিমাত্র আবাসিক ভবনের ভেতরেই রমরমিয়ে চলছিল একাধিক হোটেল ও গেস্ট হাউস। অথচ পুরো বিল্ডিংয়ে ঢোকা এবং বেরনোর মাত্র একটিই সরু রাস্তা ছিল। ছিল না কোনো ইমার্জেন্সি এক্সিট বা জরুরিকালীন পথ। ফলে বিপদ বুঝেও শেষরক্ষা করতে পারেননি আতঙ্কিত আবাসিকরা। ঘটনার আকস্মিকতায় মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় হাহাকার পড়ে যায়। ঘুমন্ত অবস্থায় যেভাবে মানুষ চরম বিপদের মুখে পড়লেন, তা প্রশাসনের নজরদারি নিয়েই বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।

একাধিক আবাসিক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জোরালো দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই চোখের সামনে এই সমস্ত নিয়মবহির্ভূত গেস্ট হাউস পরিচালিত হচ্ছিল। এত বড় একটি বহুতলে পর্যাপ্ত ফায়ার সেফটি বা দমকলের ছাড়পত্র ছাড়াই কীভাবে এই হোটেলগুলি চালানোর অনুমতি মিলল, তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। কার বা কাদের মদতে এই বেআইনি কারবার চলছিল, সেই বিষয়ে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর শহরের অন্যান্য বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনগুলির নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।