ছাত্র বিক্ষোভ রুখতে গিয়ে চরম বিপাকে বিজয়ের সরকার! শরিকি চাপের মুখে পড়ে কী এমন সিদ্ধান্ত নিল টিভিকে?

তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ময়দানে এক অভূতপূর্ব ও চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক নাটক সংঘটিত হলো। বামপন্থী দল এবং ‘তামিলনাড়ু ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজ যাতে অংশ নিতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করে চরম ব্যাকফুটে পড়ে গিয়েছিল তামিলনাড়ুর অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্রি কড়গম’ (টিভিকে)। এই বিতর্কিত সরকারি নির্দেশিকা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন ও সমালোচনার ঝড় উঠতেই শেষ পর্যন্ত বুধবার পিছু হঠতে বাধ্য হয় বিজয় সরকার। তুমুল প্রতিবাদের মুখে পড়ে ছাত্র বিক্ষোভ সংক্রান্ত ওই নির্দেশিকাটি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

এই বিতর্কিত নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে তোপ দাগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দলের জাতীয় সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস বিজয়ের রাজ্য সরকারের এই কড়া পদক্ষেপকে “পুরোপুরি অসাংবিধানিক, অযৌক্তিক ও বিবেকহীন” বলে তীব্র কটাক্ষ করেন। তবে সরকারের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সমর্থনে প্রকাশ্যে এগিয়ে এসেছিল বিজেপি। দলের নেতা বিনোজ পি সেলভম সিজেপি ও বামপন্থী সংগঠনগুলিকে “বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এজেন্ট” বলে আক্রমণ করে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়িয়ে দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ অগস্ট তামিলনাড়ুর স্কুল শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দফতরগুলির উদ্দেশ্যে একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। তাতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, দিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সিজেপি এবং বামপন্থী দলগুলির আন্দোলন বা বিক্ষোভে যাতে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ‘প্ররোচিত’ না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ২০ অগস্টের মধ্যে এ বিষয়ে বাধ্যতামূলক অ্যাকশন-ট্যকেন রিপোর্টও জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এই নির্দেশিকা জনসমক্ষে আসতেই তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি হলো— গত জুন মাসে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সময় বিজয়ের দল টিভিকে-কে বাইরে থেকে বিনাশর্তে সমর্থন দিয়েছিল এই বামপন্থী দলগুলিই। নির্বাচনে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও, ম্যাজিক ফিগার থেকে সামান্য দূরে থমকে যাওয়ায় সরকার গঠন ও আস্থা ভোটে জয়ের জন্য তাদের বামেদের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। ফলে শরিকি দলগুলির আন্দোলন রুখতে জারি করা এই সরকারি নির্দেশে জোটের অন্দরে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘জেন-জি’ এবং ‘জেন-আলফা’ প্রজন্মের আন্দোলন যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তাতেই কোণঠাসা হয়ে শেষমেশ পিছু হঠল বিজয়ের প্রশাসন।