জলপাইগুড়িতে জে.ই. আতঙ্ক! খামারে খামারে অভিযান, শুরু অপারেশন ‘পিগ’

জাপানি এনসেফালাইটিস (JE) এর ভয়াল থাবা এবার জলপাইগুড়ি জেলায়। ইতিমধ্যে ৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ গেছে ৩ জনের। নতুন করে আরও একজনের শরীরে উপসর্গ দেখা দেওয়ায় জেলাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই মারাত্মক রোগের অন্যতম ধারক যেহেতু শুয়োর এবং বাহক কিউলেক্স মশা, তাই রোগ প্রতিরোধে জেলা স্বাস্থ্য দফতর ও প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতর মিলে শুরু করেছে এক সাঁড়াশি অভিযান — যার কোডনেম ‘অপারেশন পিগ’।

‘অপারেশন পিগ’: খামারে খামারে অভিযান, শুয়োরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা

জে.ই. সংক্রমণ রুখতে জলপাইগুড়ি জেলা প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতর এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নেমেছে। জেলার প্রতিটি শুয়োরের খামারে চলছে জোরদার অভিযান। শুয়োরদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, রোগের বিস্তার রোধে জেলায় আপাতত শুয়োর বিলি কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দফতর।

দ্বিমুখী আক্রমণ: মশা নিধন ও শুয়োর অপসারণ

স্বাস্থ্য দফতর একদিকে যেমন মশা নিধনে জোর দিয়েছে, তেমনই জ্বর আক্রান্ত রোগীর খোঁজে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতর শুয়োরদের লোকালয় থেকে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার দূরে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ জারি করেছে। এটি রোগের সংক্রমণের উৎসস্থলকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা: ব্লকে ব্লকে তালিকা ও সতর্কতা

ইতিমধ্যেই প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিটি ব্লকে কোথায় কত শুয়োর রয়েছে, তার একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুয়োর পালকদের রোগ সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। শুয়োর রাখার জায়গাগুলো মশারি দিয়ে ঘিরে ফেলার এবং খামারের আশপাশে যাতে জল জমে না থাকে, সে ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুয়োরদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে, যাতে দ্রুত আক্রান্ত শুয়োরদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

অন্যান্য বছরের মতো এই বছরও ব্লকে ব্লকে প্রাণী পালকদের জন্য শুয়োর বিলির কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতর। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে সেই কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

জলপাইগুড়ির এই পরিস্থিতি এক গভীর জনস্বাস্থ্য সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য দফতর এবং প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের এই সমন্বিত ‘অপারেশন পিগ’ কতটা সফল হয়, এবং কবে এই অঞ্চলের মানুষ জে.ই. আতঙ্কের হাত থেকে মুক্তি পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।