OMG! ধর্ষণে অভিযুক্ত বাবার মৃত্যুদণ্ড মকুব, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের রায় ঘিরে বিতর্ক

এক চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশকে বাতিল করে ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট। এ ঘটনায় আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আদালত এই অপরাধকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ (rarest of the rare) বলে বিবেচনা করেননি, যদিও এটিকে জঘন্যতম অপরাধের অন্যতম হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে, যখন হরিয়ানার পালওয়ালের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী তার দাদু-ঠাকুমার সঙ্গে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। সে জানায়, তার বাবা বিগত চার বছর ধরে তাকে লাগাতার ধর্ষণ করে আসছিল। তার মা মারা যাওয়ায় এবং বাবার হুমকির কারণে সে এতদিন ভয়ে চুপ ছিল। সম্প্রতি শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের কাছে গেলে তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এর পরেই সে পরিবারের কাছে সব খুলে বলে এবং তারা পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত বাবাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে। সে তার অপরাধ স্বীকার করে নেয়। এরপর মেয়েটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। ২০২৩ সালে নিম্ন আদালত অভিযুক্ত বাবাকে লাগাতার ধর্ষণ ও মেয়েকে গর্ভবতী করার অপরাধে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ আখ্যা দিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। কিন্তু সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন অপরাধী।
পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের বিচারপতি গুরবিন্দর সিং গিল এবং বিচারপতি জসজিৎ সিং বেদীর ডিভশন বেঞ্চ সম্প্রতি নিম্ন আদালতের রায় পরিবর্তন করে ৩০ বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন। বিচারপতিরা বলেন, ‘এ কথা বলতে কোনো দ্বিধা নেই যে, নিজের মেয়েকে ক্রমাগত ধর্ষণ করে তাকে গর্ভবতী করার মতো ঘটনাটি ঘৃণ্যতম অপরাধের সর্বোচ্চ স্তরের অন্যতম। এক্ষেত্রে নরম মনোভাব দেখানোর কোনো সুযোগ নেই।’ তবে একই সঙ্গে তারা জানান, ‘এই ঘটনাকে আমরা আক্ষরিক অর্থে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ বলতে পারছি না, যা মৃত্যুদণ্ডের জন্য প্রযোজ্য।’ আদালত এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
হাইকোর্টের এই রায়ের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। একজন আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, ‘আদালত কেন এই ঘটনাকে ‘বিরলতম’ বলল না, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। অথচ তদন্তে কোনো ফাঁক বা ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টে কোনো ত্রুটি নেই, তা আদালত নিজেই স্বীকার করেছে। তাহলে শাস্তি কমানোর অর্থ কী?’
পশ্চিমবঙ্গের এক পুলিশ কর্তা বলেন, ‘পকসো আইন সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখার উদ্দেশ্য কী? এভাবে আমরা কি আমাদের কন্যাসন্তানদের প্রতি অবিচার করছি না?’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, বিচারপতিদের এখানে ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। এটাও যদি বিরলতম অপরাধ না হয়, তবে কোনটি হবে?’
আরেকজন আইনজীবী বলেন, ‘সব সময়েই কি নির্যাতিতার বয়স ১২ বছরের নিচে হতে হবে অথবা ধর্ষণের পর খুন হলে তবেই তা বিরলতম হিসেবে গণ্য হবে? এমনটা তো সবসময় হয় না।’
এক সমাজকর্মী আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাবা মেয়েকে ধর্ষণ করবে, সে তারই সন্তানের জন্ম দেবে… এটা কি এখন আমাদের দেশে স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে গেছে? মানে এতটাই জলভাত হয়ে গেছে যে আর বিরলতম ক্যাটাগরিতে ফেলা যাচ্ছে না?’
অনেকেরই মত, এ ধরনের জঘন্য অপরাধেও যদি মৃত্যুদণ্ড বহাল না থাকে, তাহলে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ স্লোগানের কোনো সার্থকতা থাকে না। হাইকোর্টের এই রায় একদিকে যেমন অপরাধীর শাস্তিকে লঘু করেছে, অন্যদিকে তা সমাজে একটি নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।