‘জনগণের কাছে না গেলে ভোট মিলবে না!’, নেতাদের বার্তা দিয়ে তুমুল শোরগোল ফেললেন প্রশান্ত কিশোর

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কৌশলবিদ ও জন সুরজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ’ বলে অভিহিত করে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই তিন নেতা কেউই দুর্নীতি ও বেকারত্ব দূর করতে পারবেন না।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কিশোর বলেন, “এটা ভালো যে বিহারে প্রথমবারের মতো নেতাদের মনে ভয় ঢুকেছে যে জনগণের কাছে না গেলে তারা ভোট পাবে না।” তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী, রাহুল গান্ধী এবং তেজস্বী যাদবের মতো নেতারা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের মতো। তারা দুর্নীতি, বেকারত্ব দূর করতে পারবেন না।”
এই বছরের শেষের দিকে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) এবং আরজেডি-র মহাগাঁটবন্ধনের মধ্যে। বর্তমানে ২৪৩ সদস্যের বিহার বিধানসভায় এনডিএ-র ১৩১ জন বিধায়ক এবং মহাগাঁটবন্ধনের ১১১ জন বিধায়ক রয়েছে।
অন্যদিকে, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব যুব বেকারত্ব ও মহিলাদের অধিকারের দাবিতে মঙ্গলবার ‘অধিকার যাত্রা’ শুরু করেছেন। তেজস্বীর এই যাত্রা এমন জেলাগুলোতে করা হচ্ছে, যেগুলো রাহুল গান্ধীর ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’-র অন্তর্ভুক্ত ছিল না। আরজেডি সাংসদ সঞ্জয় যাদব জানিয়েছেন, তেজস্বী এই যাত্রার মাধ্যমে যুবকদের জন্য চাকরি, মহিলাদের অধিকার, শিক্ষকদের সম্মান, এবং বিহারের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছেন। এই র্যালিটি ২০ সেপ্টেম্বর বৈশালীতে শেষ হবে।
প্রশান্ত কিশোরের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য বিহারের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাঁর এই ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ’ তত্ত্ব বিহারের ভোটারদের কতটা প্রভাবিত করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।