চিন্তা নেই, সবাই পাবেন টাকা! অন্নপূর্ণা প্রকল্পে ভেরিফিকেশন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটালেন মুখ্যমন্ত্রী

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ৩০০০ টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ নারী। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ১৫০০ টাকার বদলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের দ্বিগুণ টাকা কবে সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে, তা নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে কৌতুহল। অনেকে ইতিমধ্যে জুলাই মাসের টাকা পেয়ে গেলেও, তালিকাভুক্ত হতে না পারা বাকি উপভোক্তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়। এই পরিস্থিতির মাঝেই অন্নপূর্ণা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এবং টাকা পাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর এই আশ্বাসের পর রাজ্যের ভাতার টাকা না পাওয়া মহিলাদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া ৩০ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে। এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত ও যোগ্য আবেদনকারীদের খুঁজে বের করে প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ইতিমধ্যে গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার নারী অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যদি আরও ২ হাজার, ৫ হাজার বা ৭ হাজার প্রকৃত প্রাপক বাকি থেকে থাকেন, তবে তারাও নিশ্চিতভাবে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাওয়া নিয়ে যারা আশঙ্কা করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “টাকা ঢুকছে, অহেতুক ‘গেল গেল’ রব তোলার কোনো প্রয়োজন নেই। স্বচ্ছ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই বাকি লক্ষ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।” তাঁর কথায়, তাড়াহুড়ো না করে নির্ভুল তালিকা তৈরির ওপর সরকার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা টেনে মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, আগের সরকারের ৫০০ টাকা দিতেই ৯ মাস সময় লেগে গিয়েছিল। অথচ বর্তমান সরকার মাত্র দেড় মাসের মধ্যে ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, অযোগ্যরা তালিকা থেকে বাদ পড়বেন, কিন্তু প্রতিটি যোগ্য আবেদনকারী তাদের প্রাপ্য টাকা অবশ্যই পাবেন।
বর্তমানে আগস্ট মাসের তালিকাভুক্তির অপেক্ষায় বুক বাঁধছেন রাজ্যের মহিলারা। ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষে যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে, তাতে কার কার নাম থাকবে, তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট বার্তার পর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অনেক আবেদনকারীর মুখেই হাসি ফুটেছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে কোনো প্রকৃত আবেদনকারীর হাত থেকে ফসকে না যায়, তার জন্য প্রশাসনিক স্তরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে।