রাজ্য সরকারি কর্মীদের মুখে চওড়া হাসি! সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের তোড়জোড় শুরু নবান্নে

রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বুধবার সন্ধ্যায় রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা ঘিরে সরকারি মহলে প্রবল উৎসাহ দেখা দিয়েছে। জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দফতরের পক্ষ থেকে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নতুন বেতন কমিশন গঠনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

নির্দেশিকার মূল কথা:
অর্থ দফতরের গ্রুপ-পি১ শাখার ছাড়পত্র পাওয়ার পরই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়। জলসম্পদ উন্নয়ন নির্দেশনালয়ের কর্মিবর্গ ও মুখ্য বাস্তুকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৯ জুলাই সংশ্লিষ্ট দফতরের ডেপুটি সেক্রেটারির পাঠানো বার্তার সূত্র ধরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক দফতরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তাব প্রস্তুত রাখার জন্য। পরবর্তী বেতন কমিশন গঠিত হওয়ার পরেই এই প্রস্তাবগুলির ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন:
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব গ্রহণের সময় থেকেই সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থে একাধিকবার বড় ঘোষণা করেছিলেন। শপথ নেওয়ার পরেই তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে। নতুন এই নির্দেশিকা প্রকাশের ফলে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে সরকার যে অনেকটাই এগিয়েছে, তা স্পষ্ট। প্রতিটি দফতরকে তাদের নিজস্ব প্রস্তাব গুছিয়ে রাখতে বলা হয়েছে, যাতে কমিশন গঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

কর্মচারী মহলে প্রতিক্রিয়া:
সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের মুখে দাঁড়িয়ে সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অনেকে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, ‘‘বিরোধী আসনে থাকাকালীন শাসকদল আমাদের দাবি পূরণের যে আশ্বাস দিয়েছিল, তা যেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী আগে আমাদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে পে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। আশা করি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত কমিশন গঠন করে তা কার্যকর করা হবে।’’

রাজ্য সরকারি কর্মীরা বহু দিন ধরে সপ্তম বেতন কমিশনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে বর্তমান বেতন কাঠামো নিয়ে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মীর বেতন ও ভাতায় বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন প্রশাসনিক মহলের নজর, কমিশনের কাঠামো কেমন হয় এবং কবে আনুষ্ঠানিকভাবে তা কার্যকর করা হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ সরকারি কর্মীদের সঙ্গে সরকারের সুসম্পর্ক স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।