স্বাধীনতা ঘোষণা বালোচিস্তানের? ভাইরাল চিঠিতে তোলপাড়, বিপাকে চিন-পাকিস্তান অক্ষ!

‘রিপাবলিক অফ বালোচিস্তান’-এর নামে একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই নথিতে দাবি করা হয়েছে, বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাকিস্তান থেকে নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে এবং ওই অঞ্চলের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ কবজা করেছে। যদিও এই দাবির সত্যতা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে, তবুও এই ঘটনা পাকিস্তান ও তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র চিনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বালোচিস্তান পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ (দেশের মোট ভূখণ্ডের ৪৪%) হওয়া সত্ত্বেও চরম অবহেলিত ও অশান্ত। কিন্তু কেন এই প্রদেশটি দখল নিয়ে এত লড়াই? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে এর বিশাল খনিজ ভাণ্ডার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানে।
বালোচিস্তানে তামা, সোনা, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার মতো অমূল্য সম্পদ মজুত রয়েছে। আরব সাগরের তীরে অবস্থিত হওয়ায় এটি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগকারী এক গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। কিন্তু দশকের পর দশক ধরে স্থানীয়দের অভিযোগ, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার বালোচিস্তানের সম্পদ শোষণ করলেও সেখানকার মানুষের উন্নয়ন করেনি। এই ক্ষোভ থেকেই জন্ম নিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন।
বালোচিস্তানের অস্থিরতার প্রধান কারণ এখন ‘চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর’ (CPEC)। ৬৫ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল পশ্চিম চিনকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা। বেজিংয়ের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে বালোচিস্তান। গ্বদর বন্দর হলো চিনের কাছে ‘মুকুটের রত্ন’। এই গভীর সমুদ্রবন্দরটি ব্যবহার করে চিন বিশ্বের ব্যস্ততম মালাক্কা প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়। গ্বদরকে কেন্দ্র করে চিন সেখানে নতুন বিমানবন্দর, এক্সপ্রেসওয়ে এবং জ্বালানি পরিকাঠামোয় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢেলেছে। পরিকাঠামোর পাশাপাশি চাগাই জেলার সাইন্দাক তামা-সোনা প্রকল্পের মতো খনিগুলোতেও চিনা সংস্থাগুলোর আধিপত্য রয়েছে।
তবে এই বিপুল বিনিয়োগ সত্ত্বেও বালোচিস্তান চিনের জন্য এক বিভীষিকাময় অঞ্চল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA)-সহ একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী সিপেক (CPEC) প্রকল্প ও চিনা নাগরিকদের ক্রমাগত টার্গেট করছে। তাদের মতে, চিন ও পাকিস্তান মিলে বালোচিস্তানের সম্পদ লুঠ করছে। এই হামলার ভয়ে পাকিস্তান হাজার হাজার কমান্ডো মোতায়েন করেও চিনা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বালোচিস্তানের এই অস্থিরতা কেবল পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, এটি সরাসরি চিনের বিশ্ববাণিজ্যিক কৌশলের ওপর আঘাত হানছে। যদি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণ সত্যিই বিস্তৃত হয়, তবে গ্বদর বন্দরসহ চিনের কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ গভীর সংকটের মুখে পড়বে। এখন দেখার বিষয়, ইসলামাবাদ ও বেজিং মিলে এই অস্থিরতা কীভাবে মোকাবিলা করে।