আসানসোলে রথের রশিতে টান! ১৯০ বছরের ঐতিহ্যে গা ভাসালেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল

রথযাত্রার পবিত্র শুভক্ষণে আসানসোলের রানীগঞ্জের সিয়ারশোল রাজবাড়িতে নেমে এল উৎসবের জোয়ার। ১৯০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই রথযাত্রার সূচনা করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও মন্ত্রী অজয় পোদ্দার। রথের রশিতে টান দিতেই হাজার হাজার মানুষের উল্লাসধ্বনিতে কেঁপে উঠল গোটা রাজবাড়ী চত্বর। দীর্ঘদিনের রীতির সাক্ষী থাকতে সকাল থেকেই এলাকাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল।

এদিন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “রথযাত্রা আগেও হয়েছে, কিন্তু মানুষের মধ্যে এক অদৃশ্য ভয়ের পরিবেশ ছিল। আজ রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর, মানুষের মনে সেই ভয় কেটে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অনুপ্রেরণায় ও উৎসাহে আজ সর্বস্তরের মানুষ কোনো প্রকার ভয় ছাড়াই এই উৎসবে মেতেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথায় ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’—আজ সেই আবহই প্রতিটি মানুষের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে। দামোদর চন্দ্র জিউয়ের আশীর্বাদে সকলের জীবন আনন্দ ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক, এটাই কামনা করি।”

শিল্পাঞ্চলের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী সিয়ারশোল রাজবাড়ির এই রথযাত্রা ১৮৩৬ সালে জমিদার গোবিন্দপ্রসাদ পণ্ডিতের হাত ধরে শুরু হয়েছিল। ১৯২২ সালে মাহেশের আদলে তৈরি ৩৫ ফুট উঁচু পিতলের এই রথ আজও তার জৌলুস বজায় রেখেছে। মালিয়া পরিবারের কুলদেবতা দামোদর চন্দ্র জিউ রথে আসীন হয়ে ভক্তদের দর্শন দেন। নতুন রাজবাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত পুরনো রাজবাড়ি পর্যন্ত ভক্তরা রথ টেনে নিয়ে যান। বর্তমানে সিয়ারশোল স্পোর্টস অ্যান্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন এই উৎসবের সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হলো রাজবাড়ির প্রাঙ্গণে বসা প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মেলা, যা আগামী নয় দিন ধরে চলবে। উল্টোরথের দিন এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

রানীগঞ্জের পাশাপাশি আজ রথযাত্রার উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলার জেলা থেকে দেশজুড়ে। মাহেশ থেকে মহিষাদল কিংবা ইস্কন মন্দির—সর্বত্রই জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার রথযাত্রায় মানুষের ঢল। এদিকে, পবিত্র পুরীর রথযাত্রা ঘিরেও ধর্মীয় উৎসাহ ও আবেগ তুঙ্গে। ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করেই হাজার হাজার ভক্ত জগন্নাথদেবের দর্শনে সমবেত হয়েছেন। ওড়িশা রাজ্য সরকার উৎসবের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সবমিলিয়ে, রথযাত্রার রঙে আজ দেশজুড়ে এক মহোৎসবের মেজাজ।