ট্রেনের চাদর-তোয়ালে চুরি করেন আপনি? আপনার এই শখেই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন এক সাধারণ রেলকর্মী!

চুরি করাটা অনেকের কাছেই এক অশুভ অভ্যাসের নামান্তর। অনেকে ট্রেনে যাতায়াতের সময় চাদর, কম্বল বা তোয়ালের মতো সামগ্রী নিজেদের ব্যাগবন্দি করে বাড়ি নিয়ে যান। ট্রেনের এই সামগ্রী চুরির ফলে ভারতীয় রেলের বিপুল আর্থিক ক্ষতির খবর প্রায়শই সংবাদ শিরোনামে আসে। কিন্তু এই চুরির বলি যে হতে পারে একজন সাধারণ রেলকর্মী, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও সেই অমানবিক অভিজ্ঞতার কথাই প্রকাশ্যে এনেছে, যা শুনলে যেকোনো সচেতন নাগরিকের মাথা হেঁট হয়ে যাবে।
ভিডিওতে অমিত যাদব নামে এক রেলকর্মীকে নিজের যন্ত্রণার কথা বলতে শোনা যায়। এসি কোচে চাদর, তোয়ালে এবং কম্বল বিলি ও সংগ্রহের কাজ করেন তিনি। অমিত জানান, যাত্রীরা অসতর্কতার সুযোগে বা সচেতনভাবেই এই সরকারি সম্পত্তি চুরি করেন। আর যখনই হিসাব মেলানো হয়, তখন চুরি হওয়া সেই সামগ্রীর মূল্য তাঁর সামান্য বেতন থেকে কেটে নেওয়া হয়। ১৪,০০০ টাকা মাসিক বেতনের ওই কর্মীর কাছে এই জরিমানা এক বিশাল বোঝা। অমিত আক্ষেপ করে বলেন, একবার জিনিসপত্র হারিয়ে যাওয়ার দায়ে তাঁকে ৫,০০০ টাকা জরিমানা দিতে হয়েছিল। যেখানে পরিবারের ভরণপোষণ করাই কঠিন, সেখানে বেতনের অর্ধেকের কাছাকাছি জরিমানা দেওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিজের সুরক্ষার জন্য তিনি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছেন, এমনকি জিনিসপত্র দেওয়ার পদ্ধতিও বদলেছেন। তবুও চুরির প্রবণতা কমছে না। দিল্লিগামী একটি ট্রেনের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, এক যাত্রী তোয়ালে চাইলে তিনি তা দেন। যাত্রীটি প্রশ্ন করেন, কেন আগে থেকে তোয়ালে দেওয়া হয়নি। অমিত উত্তরে জানান, চুরির ভয় থেকেই তাঁরা এখন শুধু চাইলেই তোয়ালে সরবরাহ করেন। কিন্তু কথোপকথনের পরেই ওই যাত্রী তোয়ালেটি নিজের ব্যাগে পুরে নিয়ে যান। ইউটিউবার নবীন সিং তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘দয়া করে এই ধরনের মানুষদের কথাও ভাবুন’। ভিডিওর শেষে তিনি যাত্রীদের এই লজ্জাজনক চুরির মানসিকতার কঠোর সমালোচনা করেন। রেলযাত্রীদের প্রতি তাঁর কাতর অনুরোধ, সামান্য একটি তোয়ালে বা চাদরের জন্য কোনো কর্মীর জীবন দুর্বিষহ করে তুলবেন না। দায়িত্বশীল যাত্রী হিসেবে সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা বজায় রাখাই আমাদের নৈতিক কর্তব্য।