চাঁদপুর বর্ডারে টোটো যুদ্ধ! ঝাড়খণ্ডে ঢুকতে বাধা বাংলার টোটোকে, বিপাকে রোগী ও অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা

গত দু’দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তের চাঁদপুর বর্ডারে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা। অভিযোগ উঠেছে, বাংলার টোটোগুলিকে হঠাৎ করেই ঝাড়খণ্ডে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ধুলিয়ান ও পাকুড়— দুই রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

অমানবিক আচরণের অভিযোগ: টোটো চালক ও যাত্রীদের দাবি, কোনওরকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এই নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। সবথেকে মর্মান্তিক বিষয় হলো, অসুস্থ রোগী এমনকি অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদেরও টোটো থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজেশ আলির মতো টোটো চালকদের কথায়, “পাকুড় স্টেশন ধরার জন্য এই রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রীদের মাঝপথে নামিয়ে দেওয়ায় তারা না পারছেন ফিরতে, না পারছেন গন্তব্যে পৌঁছাতে।”

কেন এই নির্ভরতা? বছরের পর বছর ধরে পাকুড় থেকে ধুলিয়ান এবং ধুলিয়ান থেকে পাকুড়— এই দুই জনপদের মধ্যে যাতায়াতের প্রধান লাইফলাইন হলো টোটো।

ব্যবসায়িক গুরুত্ব: বাজার-হাট, মালপত্র পরিবহণ এবং কর্মসূত্রে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই রুটে যাতায়াত করেন।

রেল যোগাযোগ: দূরপাল্লার ট্রেন ধরতে ধুলিয়ান ডাকবাংলো এলাকা থেকে মানুষ পাকুড় স্টেশনে যান এই টোটোর মাধ্যমেই।

প্রশাসনের আশ্বাস বনাম জনরোষ
কার নির্দেশে বা কেন এই নিষেধাজ্ঞা, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে যেখানে নির্বিঘ্নে চলাচল হয়েছে, সেখানে হঠাৎ এই কড়াকড়ি কেন?

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি: দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও টোটো চালকরা।

প্রশাসনিক তৎপরতা: জঙ্গিপুর মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং ঝাড়খণ্ড প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে অতি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।