“চরম অস্বস্তিতে মদন”-একদিকে আইনি সমন, অন্যদিকে ED -র জেরার খাঁড়া—কোথায় এগোচ্ছে জল?

বাংলার রাজনৈতিক আঙিনায় এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত এবং চর্চিত বিষয়—মদন মিত্র বনাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বন্দ্ব। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের আক্রমণাত্মক মন্তব্য ও কালীঘাট শিবিরের পালটা পদক্ষেপে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ এখন চরমে। গত ১৫ জুলাই দলবদলের পর থেকে ঠিক কী কী ঘটনা ঘটে চলেছে এই যুযুধান দুই পক্ষের মধ্যে, একনজরে দেখে নেওয়া যাক গত এক সপ্তাহের পুরো টাইমলাইন।
মদন বনাম অভিষেকের উত্তপ্ত সম্পর্কের ৭ দিনের টাইমলাইন:
১৪ জুলাই (ইডি নোটিশ ও গোপন বৈঠক): নাটকীয় মোড় নেওয়ার আগের দিনই মদন মিত্রের স্ত্রী ও ছেলেকে ইডি নোটিশ পাঠায়। ওই দিনই সন্ধেয় মদন মিত্র সোজা চলে যান এন্টালির প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে। সেখানে সন্দীপন সাহার বাবার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ গোপন বৈঠক করেন তিনি।
১৫ জুলাই (শিবির বদল ও প্রথম আক্রমণ): সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মমতার তৃণমূল ছেড়ে ঋতব্রতের শিবিরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। দলবদল করেই তিনি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নেন এবং আক্রমণ শানান।
১৬-১৮ জুলাই (শোভনদেব প্রীতি ও রাজনৈতিক জল্পনা): কুণাল ঘোষ মন্তব্য করেন যে তাঁদের দলের একজন সদস্য প্রতিপক্ষ শিবিরে রয়েছেন। এর পাল্টা জবাবে মদন জানান যে তিনি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে আগামী দশ বছর বিরোধী আসনে দেখতে চান। এতে স্পষ্ট হয় যে পুরনো দল ছাড়লেও শোভনদেবের প্রতি তাঁর টান ও পক্ষপাতিত্ব এখনও অটুট।
১৯ জুলাই (‘খুনি’ মন্তব্য ও বিতর্ক): সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়ান মদন মিত্র। তিনি অভিষেককে সরাসরি ‘ক্রিমিনাল’ ও ‘সুপারি কিলার’ বলে আক্রমণ করে বলেন, “অভিষেক আপনি তো অপরাধী, খুনি। পয়সা নিয়ে খুন করেন।”
২০ জুলাই (মেয়ো রোডের মঞ্চে চরম আক্রমণ ও ডেডলাইন): একুশে জুলাইয়ের ঠিক আগের দিন মেয়ো রোডের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির আক্রমণ করেন মদন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “অভিষেক এক ঘণ্টা টাইম দিয়েছে। আপনাকে এক মাস সময় দিচ্ছি। অভিষেকের হাত ছেড়ে এদের হাত ধরুন। আপনার পার্টি এটা, অভিষেকের পার্টি নয়।”
২১ জুলাই (ঋত শিবির ও কালীঘাটের দ্বৈরথ): একুশের মঞ্চ থেকে ঋত শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা ও অভিষেক। তাঁরা স্পষ্ট বার্তা দেন যে এই দলত্যাগীদের কেউ যেন ফেরত না নেন। অন্যদিকে মদন মিত্রও পালটা অভিষেককে ক্ষমা চাওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
২২ জুলাই (১০ কোটির আইনি নোটিশ ও ইডির খাঁড়া): লাইভে অবমাননাকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্যের জেরে শেষমেশ মদন মিত্রকে ১০ কোটি টাকার মানহানির আইনি নোটিশ পাঠান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা। নোটিশে তিন দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে, অন্যথায় দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আর এর ঠিক পরেই অর্থাৎ একুশের সভা থেকে ফেরার পরই পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্র ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের তলব করে ফের নতুন করে ইডির সমন এসে পৌঁছায়।
সব মিলিয়ে, দল বদলের এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই আইনি নোটিশ, রাজনৈতিক আক্রমণ এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপের মুখে পড়ে কামারহাটির বিধায়কের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন কোন মোড় নেয়, সেটাই দেখার।