“জঙ্গলমহলে তৈরি হচ্ছে অলিম্পিক মানের তীরন্দাজি স্টেডিয়াম! ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ঐতিহাসিক ঘোষণা মন্ত্রীর”

জঙ্গলমহলের আদিবাসী যুবসমাজকে ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভাকে সঠিকভাবে বিকশিত করতে এক অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও বড় ধরনের উদ্যোগের ঘোষণা করলেন রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। সম্প্রতি মুকুটমণিপুরের ঐতিহাসিক কংসাবতী ভবনে তপশিলি জাতি আদিবাসী প্রাক্তন সৈনিক কৃষি বিকাশ শিল্প কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এই যুগান্তকারী ঘোষণা করেন। মন্ত্রী জানান যে খাতড়ায় আদিবাসী ছেলেমেয়েদের উন্নত ক্রীড়া প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে একটি সম্পূর্ণ অত্যাধুনিক তীরন্দাজি স্টেডিয়াম গড়ে তোলা হবে। ইতিমধ্যেই এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও তিনি সর্বসমক্ষে নিশ্চিত করেন।
অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যে মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে জঙ্গলমহলের সাধারণ আদিবাসী ছেলেমেয়েদের রক্ত ও ধমনীতে খেলাধুলা, বিশেষ করে তীরন্দাজির এক অসাধারণ ও স্বাভাবিক প্রতিভা জন্মগতভাবে লুকিয়ে রয়েছে। সেই সহজাত দক্ষতাকে সঠিক দিশা দেখাতে এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিকাঠামো ও আধুনিক প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করতে এই স্টেডিয়াম এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় জমি চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া চলছে এবং জমি চূড়ান্ত হওয়ার পরেই দ্রুতগতিতে স্টেডিয়াম নির্মাণের মূল কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। মন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট ঘোষণার ফলে স্থানীয় যুবসমাজ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে চরম উদ্দীপনা ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন যে এই বিশেষ উদ্যোগের সুবাদে ভবিষ্যতে জঙ্গলমহলের অত্যন্ত প্রতিভাবান তীরন্দাজরা অলিম্পিকের মতো বিশ্বমঞ্চে সরাসরি দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ লাভ করবে। এর আগে উক্ত অনুষ্ঠানে তপশিলি জাতি আদিবাসী প্রাক্তন সৈনিক কৃষি বিকাশ শিল্প কেন্দ্রের সম্পাদক সৌমেন কোলে মন্ত্রীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে সংস্থার বহুমুখী কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সংস্থার সার্বিক কার্যক্রমে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাসও পাওয়া গেছে। সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা বিভিন্ন অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে যেভাবে নতুন করে কাজের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে কর্মীরা দারুণভাবে উৎসাহিত।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর এই তীরন্দাজি স্টেডিয়াম তৈরির ঘোষণা জঙ্গলমহলের সার্বিক ক্রীড়া মানচিত্রে এক নতুন আশার আলোর সঞ্চার করেছে। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আদিবাসী যুবকদের জন্য খেলাধুলার দুনিয়ায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এর মাধ্যমে কেবল স্থানীয় স্তরে নয়, বরং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার সুযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সরকারের এই দূরদর্শী পদক্ষেপ জঙ্গলমহলের সার্বিক যুব ও ক্রীড়া উন্নয়নে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।