“চা না কফি—কোনটা খাবেন? শরীরের ব্যালেন্স রাখতে কোনটি বেশি উপকারী জানেন কি?”

চা নাকি কফি—এই একটি মাত্র প্রশ্নই বোধহয় বাঙালিকে দুটো আলাদা শিবিরে ভাগ করে দেওয়ার জন্য একাই একশো! এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম পানীয় কেবল সকালের ঘুমই ভাঙায় না, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সারাদিনের আবেগ, জমজমাট আড্ডা আর এক চিলতে মন ভালো লাগার মুহূর্ত। বন্ধুদের আড্ডার আসর হোক কিংবা বরষার দিনে জানলার ধারে একা বসে থাকা, এক কাপ চা কিংবা কফি ছাড়া আড্ডা যেন ঠিক জমে ওঠে না। তবে ভালোলাগা আর অনুভূতির আবেগের পাশাপাশি চিরকালই প্রশ্ন থেকেই যায় যে শরীর ও ব্যক্তিগত পছন্দের মধ্যে সঠিক ব্যালেন্স রাখতে আসলে কোন পানীয়টি বেশি এগিয়ে রয়েছে?
যাঁরা কফিপ্রেমী, তাঁদের কাছে কফি মানে কেবল পানীয় নয়, এটি একেবারে পাকা এনার্জি বুস্টার। কফিতে উপস্থিত ভরপুর ক্যাফিন নিমেষেই শরীরের সমস্ত ক্লান্তি দূর করে মনকে চাঙ্গা করে তোলে। কাজের মাঝে যখন ভরদুপুরে একরাশ অলসতা এসে ঘিরে ধরে, তখন এক কাপ কফির তীব্র সুবাসই পারে মনোযোগ আবার কাজে ফিরিয়ে আনতে। তবে শুধু মানসিক আবেগ নয়, বিজ্ঞানসম্মত গবেষণাও বারবার বলছে যে কফির গুণাগুণ সত্যিই অগাধ। এটি মানবদেহের বিপাকহার বা মেটাবলিজম বহুগুণ বাড়িয়ে ওজন ঝরাতে দারুণভাবে সাহায্য করে। বিভিন্ন সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে পরিমাণমতো কফি পান করলে হৃদরোগ, গলস্টোন এবং পার্কিনসনের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস পায়। তা ছাড়া মানসিক চাপ কমিয়ে মেজাজ ফুরফুরে ও চনমনে রাখতেও কফির জুড়ি মেলা ভার।
অন্যদিকে, চায়ের কাপে চুমুক মানেই এক অদ্ভুত মানসিক প্রশান্তি। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার আড্ডা থেকে শুরু করে একাকী চিন্তাভাবনার বিশ্বস্ত সঙ্গী হলো চা। চায়ের মধ্যে ক্যাফিনের পরিমাণ কফির তুলনায় কিছুটা কম থাকে, তাই এটি হৃদস্পন্দন বা ঘুমের বারোটা না বাজিয়েই শরীরকে নিমেষে রিফ্রেশ করে তোলে। চায়ের পাতার মধ্যে লুকিয়ে থাকা ‘এল-থেনাইন’ নামের বিশেষ অ্যামিনো অ্যাসিড স্নায়ুকে শান্ত করে মানসিক চাপ নিমেষে গায়েব করে দিতে পারে। নিয়মিত লিকার চা বা গ্রিন টি পান করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং নানান ধরনের কার্ডিওভাস্কুলার রোগ থেকে হৃদয়কে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত সহজ হয়।
তাহলে এই কাপের মহাযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জয়ী হলো কে? আসল সত্যিটা হলো, চা ও কফি উভয় পানীয়ই তাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের জায়গায় সেরা। আসল ঝামেলা বাঁধে কেবল আমাদের ভুল পানের অভ্যাসের কারণে! অতিরিক্ত পরিমাণে কফি সেবন করলে রাতে ঘুমের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাতে পারে কিংবা পেটে অতিরিক্ত অম্বলের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। আবার চায়ের মধ্যে এক গাদা দুধ ও চিনি মিশিয়ে খেলে তা শরীরে সুগার ও মেদ বাড়িয়ে বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই আড্ডা, ইমোশন আর ভালোবাসার চুমুক তো দেদারে চলতেই থাকবে, তবে নিজের শরীরের ধরন ও স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনীয়তা বুঝে কাপে চুমুক দেওয়াই হলো সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ!