“ভিডিয়ো দেখার সময় নেই আমাদের! নিট বিক্ষোভ মামলার জরুরি আর্জি খারিজ করে সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা”

ছাত্র আন্দোলনের উত্তাপ এবার সরাসরি গিয়ে পৌঁছল দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ে। তবে সেখানে মিলল না কোনো স্বস্তির বার্তা, বরং কড়া ভাষায় জরুরি আর্জির আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ‘ভিডিয়ো দেখতে আগ্রহী নই আমরা, দেখার সময় নেই আমাদের’—এমনই স্পষ্ট মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযান চলাকালীন পড়ুয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জ ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে শীর্ষ আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতেই প্রধান বিচারপতির এই কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান সামনে আসে।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানির জন্য জরুরি আর্জি পেশ করা হয়েছিল। গত সোমবার অর্থাৎ ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছিল। অভিযোগ ওঠে যে, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ওপর পুলিশ নির্মমভাবে চড়াও হয়েছে এবং বেধড়ক লাঠিচার্জ করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এবং শীর্ষ আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। তবে আদালত এই জরুরি আবেদন সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দেয়। শুনানির শুরুতে আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সাফ জানিয়ে দেন যে, “আমাদের সময় নষ্ট করবেন না এবং নিজের সময়ও নষ্ট করবেন না।”
মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেছিলেন যে, দেশের সাধারণ পড়ুয়ারা নিট-ইউজি ২০২৬ (NEET-UG 2026) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ (NTA)-র কাঠামোগত আমূল পরিবর্তনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের দাবিতে এই বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু আইনজীবীর বক্তব্য মাঝপথেই থামিয়ে দিয়ে প্রধান বিচারপতি কড়া সুরে বলেন, “থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ।” এরপরেই আইনজীবী পুলিশের নৃশংসতার দৃশ্য প্রমাণ করার জন্য আন্দোলনকারীদের ওপর হওয়া লাঠিচার্জের একটি ভিডিয়ো আদালতকক্ষে দেখাতে চান। তখনই অত্যন্ত কঠোর মনোভাব নিয়ে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁদের কাছে কোনো অতিরিক্ত সময় নেই এবং তারা কোনোভাবেই কোনো ভিডিয়ো দেখতে আগ্রহী নন।
উল্লেখ্য, এই মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের রাজনৈতিক দলটির জন্মও বেশ চমকপ্রদ এবং তা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি পূর্ববর্তী বিতর্কিত মন্তব্য থেকেই অনুপ্রাণিত। এর আগে দেশের বেকার যুবক যারা সাংবাদিকতা ও সমাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত, তাদের একটি মন্তব্যে ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা বলে অভিহিত করেছিলেন তিনি। এই মন্তব্য প্রকাশের পরেই সারা দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। যদিও পরবর্তীতে এই তীব্র বিতর্ক থামাতে সাফাই দেওয়া হয়েছিল যে, ভুয়ো ডিগ্রিধারী ব্যক্তিদেরই মূলত ককরোচ বলা হয়েছিল।
প্রধান বিচারপতির সেই মন্তব্যের রেশ ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করেছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। মাত্র দুই মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এই অভিনব দলটির অনুগামী বা ফলোয়ার্সের সংখ্যা লক্ষাধিক ছাড়িয়ে যায়। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি রাজপথের আন্দোলনে নামে এই দল। সাম্প্রতিক সময়ে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে দিল্লির যন্তর মন্তরে একটানা ধর্ণায় বসেছিলেন সিজেপির কর্মী ও সমর্থকরা। এমনকি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে আমরণ অনশনে বসেছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। গত ১৮ জুলাই দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থল থেকে তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতেই আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছিল দলীয় নেতৃত্ব, কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের এই অনমনীয় ও স্পষ্ট পদক্ষেপে মামলাকারীরা বড় ধাক্কা খেলেন।