গোলপার্ক গুলির ঘটনায় বড় মোড়! সোনা পাপ্পুর বিদেশি পিস্তল কি জয় কামদারের যোগসাজশ?

কলকাতা তথা দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম আলোচিত গোলপার্ক কাঁকুলিয়া রোডের সংঘর্ষ ও গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারী সংস্থার সাম্প্রতিক দাবি, ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগেই কসবার ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু একটি বিদেশি পিস্তল সংগ্রহ করেছিলেন। এই পিস্তল সংগ্রহের পেছনে ধৃত ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের সরাসরি ভূমিকার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

ইডি সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পুর অস্ত্র সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। তদন্তে দেখা গেছে, বিদেশি পিস্তলটি সোনা পাপ্পুর হাতে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে জয় এস কামদারের সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছিল। যদিও কৌশলগতভাবে অস্ত্রটির লাইসেন্স সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে করানো ছিল, কিন্তু ইডির গোয়েন্দাদের অভিযোগ, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওই অস্ত্রের প্রকৃত ব্যবহারকারী ছিলেন সোনা পাপ্পু নিজেই, এবং এই অবৈধ লেনদেনে জয় এস কামদার মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন। গত মার্চ মাসে কাঁকুলিয়ার ওই সংঘর্ষের পর সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইডি আধিকারিকরা এই অস্ত্রটিই উদ্ধার করেন। এই ঘটনার পর থেকেই সোনা পাপ্পু আত্মগোপন করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে জমি দুর্নীতি ও আর্থিক তছরুপের মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই পিস্তল কেনা কোনো সাধারণ বিষয় নয়, বরং এটি পরিকল্পিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অংশ। অস্ত্রটি কীভাবে কেনা হলো, লাইসেন্স থাকার আড়ালে এর প্রকৃত ব্যবহারের লক্ষ্য কী ছিল এবং এটি কোনো বড় অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে কি না—তা এখন ইডির তদন্তের অন্যতম মূল ভিত্তি। জয় এস কামদার এবং সোনা পাপ্পুর মধ্যে গড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্র ধরেই এই অস্ত্র কেনাবেচা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নতুন নতুন তথ্যের হদিশ পাচ্ছেন গোয়েন্দারা।

তদন্তের জালে এখন শুধু সোনা পাপ্পু বা জয় কামদারই নয়, উঠে এসেছে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নামও। ইডির দাবি, জয় এস কামদারের সঙ্গে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের যেমন ব্যবসায়িক যোগ রয়েছে, তেমনই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সঙ্গেও সোনা পাপ্পুর গভীর যোগসাজশের প্রমাণ মিলেছে। এই ত্রিভুজ সম্পর্কের যোগসূত্র খুঁজে বের করাই এখন ইডির গোয়েন্দাদের প্রধান লক্ষ্য।

উল্লেখ্য যে, গত ১৮ মে সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করার পর থেকে তদন্তের গতি বাড়িয়েছে ইডি। শুক্রবার ইডির বিশেষ আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ পাতার একটি চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। জমি দুর্নীতি ও আর্থিক তছরুপের এই মামলায় চার্জশিটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সোনা পাপ্পুর আর্থিক সাম্রাজ্য গড়তে জয় এস কামদার ও অন্যান্য প্রভাবশালী মহলের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। আগামী দিনে এই মামলার শুনানিতে কোন কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে শহরবাসী। তবে ইডি যে সমস্ত নথিপত্র ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করেছে, তাতে সোনা পাপ্পু ও তাঁর সহযোগীদের আইনি জটিলতা যে বহুগুণ বাড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।