কাগজের নোটের বদলে পলিমার! জাল রুখতে বড় সিদ্ধান্ত রিজার্ভ ব্যাংকের, নোটের নিরাপত্তায় কঠোর নিয়ম

কাগজের নোটের আয়ু আর কতদিনই বা? ঘামে ভিজে বা দীর্ঘদিনের ব্যবহারে নোটের যে করুণ দশা হয়, সেই সমস্যার সমাধান খুঁজতে মরিয়া রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (RBI)। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে, আগামী বছর থেকেই দেশজুড়ে চালু হতে চলেছে প্লাস্টিকের নোট। কাগজের বদলে পলিমার সাবস্ট্রাট শিট দিয়ে তৈরি এই নোটের স্থায়িত্ব হবে বহুগুণ বেশি।

কেন এই পরিবর্তন?
বেশ কয়েক মাস ধরেই এই পরিকল্পনা নিয়ে আরবিআই তৎপর। মুম্বই ও পাটনায় বোর্ড মিটিংয়ে এই নোটের গুণগত মান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎপাদনকারীদের সঙ্গে কথা বলছে পলিমার সাবস্ট্রাট শিট সরবরাহের জন্য। নোট ছাপানোর বিভাগ ‘মুদ্রণ’ জানিয়েছে, আগামী ১৮ অগস্টের মধ্যে আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় সংস্থাগুলিকে তাদের দরপত্র বা বিড জমা দিতে হবে। মূলত জাল নোটের কারবার রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরবিআই।

নিরাপত্তার কঠোর শর্তাবলী
প্লাস্টিকের নোট নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সরকার যে নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তা তাদের জারি করা টেন্ডারের শর্ত দেখলেই বোঝা যায়। যেহেতু এটি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়, তাই টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি সংস্থাকে সরকারের কাছ থেকে কঠোর সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শর্ত হলো, এই নোট তৈরির ক্ষেত্রে কোনো কাঁচামাল বা উপাদান চিন বা পাকিস্তান থেকে সংগ্রহ করা যাবে না। শুধু তাই নয়, ভারতের জন্য ব্যবহৃত এই বিশেষ প্লাস্টিক উপাদান অন্য কোনো দেশে বিক্রি করা যাবে না। পাকিস্তান ও চিনকে পুরোপুরি নোট ছাপার প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে ভারত এক নতুন সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে চাইছে।

পুরোনো অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
ভারতে প্লাস্টিকের নোটের ভাবনা নতুন নয়। এর আগেও ২০০০ সালের ডিসেম্বরে আরবিআই একবার এই উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রায়াল হিসেবে বাজারে ১০ টাকার প্রায় ১০০ কোটি প্লাস্টিকের নোট ছাড়া হয়েছিল। জয়পুর, সিমলা, ভুবনেশ্বর, মাইসোর ও কোচিতে এই নোটগুলি চালুও হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এটিএম মেশিনগুলি প্লাস্টিকের নোট নিতে পারত না, তাই সেই প্রকল্প মাঝপথে থমকে যায়। তবে এবার প্রযুক্তি অনেক উন্নত। নতুন প্রজন্মের এটিএম ও আধুনিক প্লাস্টিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এবার দীর্ঘস্থায়ী নোটের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা নোট ছিঁড়ে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে সাধারণ মানুষও এখন এই প্লাস্টিক নোটের অপেক্ষায় দিন গুনছে। জাল নোটের কারবারিদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হতে চলেছে, আর সাধারণ মানুষের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ লেনদেনের নতুন যুগের সূচনা।