ইডির নোটিস পেতেই সন্দীপন সাহার বাড়ি মদন মিত্র! এবার কি তবে শিবির বদলের পালা?

ইডি-র তলব পেতেই টালমাটাল মদন মিত্রের অন্দরমহল। স্ত্রী ও দুই ছেলেকে ইডি-র নোটিস দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের তৎপরতা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনার পারদ তুঙ্গে। মঙ্গলবার রাতে তিনি সোজা পৌঁছে যান এন্টালির বিধায়ক এবং তৃণমূলের উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি সন্দীপন সাহার বাড়িতে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, একদিকে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপে মদন মিত্র এখন কোণঠাসা। এই পরিস্থিতিতে তাঁর সন্দীপন সাহার বাড়ির দরজায় হানা দেওয়া নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি শিবির বদলের ইঙ্গিত—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও মদন মিত্রের দাবি, তিনি সন্দীপন সাহার বাবা প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে কথা বলতেই গিয়েছিলেন। তবে ঘটনার নেপথ্যে যে রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়েছে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে।

মদন মিত্রের এই তৎপরতাকে রীতিমতো বিদ্রূপ করেছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সন্দীপন সাহা বা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েও কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাত থেকে বাঁচা যাবে না। ইডি-র অফিসারদের সঙ্গে দেখা করুন, তারাই যদি ক্লিনচিট দেয়, তবেই সম্ভাবনা আছে। তৃণমূল কে ভালো আর কে খারাপ, তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই।” দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে আরও উসকে দিল। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই মদন মিত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত বলে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তৃণমূলের অন্দরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা পন্থী একটি গোষ্ঠীর সক্রিয়তা ও মদন মিত্রের সঙ্গে তাঁদের সাম্প্রতিক সমীকরণ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বিশেষ নজর কেড়েছে।

দিলীপ ঘোষ আরও সুর চড়িয়ে বলেন, “আইন আইনের পথে চলে। যারা বেআইনি কাজকর্মে জড়িয়েছে, তাদের কাছে সমন যাবেই, এটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক রঙ দেখা হয় না। হাজার হাজার মানুষ নোটিস পাচ্ছেন। বিজেপির এখানে কিছু করার নেই।” অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় এজেন্সি যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে হাতিয়ার করে মদন মিত্রের মতো প্রভাবশালী নেতাকে আরও চাপে ফেলতে চাইছে, তা দিলীপ ঘোষের কথায় স্পষ্ট।

রাজনীতির কারবারিদের মতে, মদন মিত্রের পরিবারকে তলব করা এবং তার পরপরই সন্দীপন সাহার বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা—এই দুইয়ের মধ্যে গভীর সংযোগ রয়েছে। সন্দীপন সাহা গোষ্ঠী তৃণমূলের অন্দরে মমতা-অভিষেক শিবিরের বাইরে এক বিকল্প শক্তির উত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মদন মিত্র কি তবে এখন সেই শক্তির ওপর ভরসা করেই ইডি-র চাপ থেকে মুক্তি চাইছেন? নাকি এন্টালির বিধায়কের মাধ্যমে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সমঝোতার পথ খুঁজছেন? উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী কয়েকটা দিনের। তবে মদন মিত্রের এই ‘ডোর টু ডোর’ রাজনীতি যে তাঁকে আরও বড় সংকটে ফেলল, তা দিলীপ ঘোষের আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতেই পরিষ্কার।