তীব্র ক্ষোভ দুর্গাপুরে! ইসিএল-এর গাফিলতিতে ভেঙে পড়ল জলের ট্যাঙ্ক, হাজার হাজার মানুষ এখন জলের অপেক্ষায়

দুর্গাপুরের ইসিএল-এর শ্যামসুন্দরপুর কোলিয়ারি এলাকায় বুধবার এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ৭০ বছরেরও বেশি পুরনো একটি বিশালাকার জলভর্তি জলের ট্যাঙ্ক হঠাৎই বিকট শব্দে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর দুই মহিলা কর্মী। তাঁদের নাম সঙ্গীতা দেবী (৫০) এবং প্রভাবতী ভুঁইয়া (৫০)। ঘটনার আকস্মিকতায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহত দুই কর্মীকে দ্রুত উদ্ধার করে দুর্গাপুরের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁরা গুরুতর আহত হলেও আপাতত তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা সনাতন মাঝি জানান, চোখের পলকেই বিশাল ট্যাঙ্কটি ভেঙে পড়ে, যা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।

এই দুর্ঘটনার পর ইসিএল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, ৭০ বছরের পুরনো এই জরাজীর্ণ ট্যাঙ্কটির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর ধরে চূড়ান্ত উদাসীনতা ও গাফিলতি দেখিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রজনীস দাসের অভিযোগ, “বারবার সাবধান করার পরেও ইসিএল কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তাঁদের এই উদাসীনতার কারণেই আজ এই বড় দুর্ঘটনা ঘটল। বিপজ্জনক পরিকাঠামো নিয়ে তাঁরা একেবারেই ভাবিত নন।”

দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। শ্রমিক নেতা প্রবীর চক্রবর্তী সরাসরি ইসিএল-এর চরম গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “আহত দুই কর্মীর প্রাণ সংশয় হতে পারত। আমরা অবিলম্বে এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করছি।” তিনি আরও যোগ করেন, এই জলের ট্যাঙ্কের ওপর অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষের দৈনন্দিন জল সরবরাহ নির্ভর করে। এই ঘটনায় শুধু পরিকাঠামোর ভয়াবহ ছবিই উঠে আসেনি, বরং ইসিএল-এর প্রশাসনিক ব্যর্থতাও ফুটে উঠেছে।

ট্যাঙ্কটি ভেঙে পড়ায় শ্যামসুন্দরপুর কোলিয়ারি এবং পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার মানুষ পানীয় জলের তীব্র সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছেন। এই তীব্র দাবদাহের মধ্যে পানীয় জলের বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে, তা নিয়ে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। শ্রমিক সংগঠনগুলি এখন ইসিএল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যাতে দ্রুত পানীয় জলের বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ইসিএল-এর পরিকাঠামোগত গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সকলে। প্রশাসন কি এই দুর্ঘটনার পর টনক নড়াবে, নাকি আবারও উদাসীনতা বজায় থাকবে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।