গুন্ডা দমন আইন কার্যকর হতেই দিলীপের হুঙ্কার! বললেন, ‘আর ক্ষমা নয়, কড়া শাস্তি হবে’

রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার নতুন অধ্যায় শুরু হলো আজ, সোমবার। রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে বহু আলোচিত ‘গুন্ডা দমন আইন’। ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে এই নতুন আইনের প্রয়োগ নিয়ে কঠোর বার্তা দিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, গত বেশ কয়েক বছর ধরে যারা রাজনীতির আড়ালে গুন্ডামি চালিয়ে এসেছে, এবার তাদের আর রেহাই নেই। নতুন আইন অনুযায়ী, কেবল জেল নয়, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে অপরাধীদের ভিটে-মাটি বিক্রি করে।

সোমবার সকালের এই প্রাতঃভ্রমণ থেকে একাধিক স্পর্শকাতর বিষয়ে মুখ খোলেন মন্ত্রী। বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সিপিএম নেতা লাহেক আলির গ্রেফতারি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যারা অসামাজিক শক্তিকে উসকে দিচ্ছে, তারা মূল অপরাধীর সমান অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বারুইপুর কাণ্ডে এনকাউন্টার নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবেও তিনি সমালোচনাকারীদের ‘ভণ্ড’ বলে কটাক্ষ করতে পিছপা হননি।

১৬ অগাস্ট—যা অতীতে তৃণমূল আমলে ‘খেলা হবে দিবস’ হিসেবে পালিত হতো, সেই দিনটিকে নিয়েও বদল আসছে রাজ্যের সরকারি ক্যালেন্ডারে। এবার ১৬ অগাস্ট পালিত হবে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে। এই পরিবর্তনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এসব ‘খেলা হবে’ দিবস অর্থহীন। রাজ্যকে পজিটিভ বা ইতিবাচক পথে এগোতে হবে, হিংসার রাজনীতি আর নয়।”

পাশাপাশি, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে সুর চড়িয়েছেন তিনি। মহেশতলার সেবাশ্রয়কাণ্ডে ভুয়ো চিকিৎসকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে ভেজাল আইপিএস, আইএএস, মন্ত্রী দেখেছিলাম, এবার দেখছি ভেজাল ডাক্তার। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

অরুণাচল মডেলের আদলে বাংলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ’ প্রকল্প চালু করার বিষয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রের এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো আগে রাজ্যে পৌঁছায়নি। ৩০ হাজার কোটি টাকার জলজীবন মিশন কোথায় গেল তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সবশেষে একুশে জুলাইয়ের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ডিম-ভাতের রাজনীতি বন্ধ হবে। শহিদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানোই হবে নতুন সরকারের লক্ষ্য।” সোমবারের এই মন্তব্যগুলো স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে রাজ্য সরকার এখন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে এগোচ্ছে।