খেলনা ভেবে বোমা ধরতেই বিপত্তি! বাসন্তীর বিস্ফোরণকাণ্ডে নিভে যেতে বসেছে একরত্তির দুটি চোখ

উৎসবের মরসুমে রক্তক্ষয়ী ঘটনার সাক্ষী থাকল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী। বড়দিনের আগের সন্ধ্যায় খড়িমাচান গ্রামে এক তৃণমূল কর্মীর নির্মীয়মাণ বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হল এক শিশু। বর্তমানে কলকাতার SSKM হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ওই বালক। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তার অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় খড়িমাচান গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় তৃণমূল কর্মী আনার শেখের একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে গিয়েছিল ওই শিশুটি। অভিযোগ, সেখানে মজুত করে রাখা শক্তিশালী হাতবোমা ফেটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, শিশুটির ডান হাতের কবজির একাংশ উড়ে যায় এবং তিনটি আঙুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও তার মুখ ও দুটি চোখ বোমার স্প্লিন্টারে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে।
SSKM হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে শিশুটির ডান হাতের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টায় দুটি আঙুল বাঁচানো সম্ভব হলেও বাকি আঙুলগুলি বাদ দিতে হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের সবথেকে বেশি উদ্বেগে রেখেছে শিশুটির চোখের অবস্থা। বোমায় ব্যবহৃত পাথরের কুচি বা স্প্লিন্টার সজোরে তার দুই চোখের মণি বিঁধে রয়েছে। এর ফলে তার দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত ঝাপসা হয়ে গিয়েছে এবং সে প্রায় কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। আজ চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ টিম তাকে পরীক্ষা করবে। এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কীভাবে অপারেশন করে ওই স্প্লিন্টার বের করা সম্ভব এবং আদৌ তার দৃষ্টিশক্তি ফেরানো যাবে কি না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাসন্তীতে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আহত শিশুর পরিবারের সরাসরি অভিযোগ, তৃণমূল কর্মী আনার শেখের বাড়িতে বেআইনিভাবে বোমা মজুত করে রাখা ছিল। খেলতে গিয়ে সেই বোমার সংস্পর্শে আসতেই এই বিস্ফোরণ ঘটে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ওই নির্মীয়মাণ বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে। উৎসবের আলো যখন চারদিকে, তখন বাসন্তীর এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।