কোমরে তীব্র ব্যথা আর প্রস্রাবে রক্ত? সন্তানের এই লক্ষণগুলো ভুলেও এড়িয়ে যাবেন না!

বর্তমানে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক, উভয়ই কিডনিতে পাথর বা পাথরজনিত মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। জন্মগত ত্রুটি, বংশগত কারণ, পরিবর্তনশীল জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, ভিটামিনের ঘাটতি এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। যদিও শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে কিডনির পাথর মূলত একই ধরনের হয়, তবুও বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা চিহ্নিত করা কিছুটা কঠিন হতে পারে। কারণ শিশুরা বেশিরভাগ সময় ব্যথার সঠিক অবস্থান ও কারণ বর্ণনা করতে পারে না।

শিশুদের কিডনিতে পাথরের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে পিঠ, তলপেট বা কোমরের কাছে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে গোলাপি, লাল বা বাদামী রঙের রক্ত ​​থাকা, ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া, প্রস্রাবের সময় ব্যথা, প্রস্রাব করতে না পারা, ঘোলাটে বা দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব হওয়া এবং খিটখিটে মেজাজ। ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মতে, এই লক্ষণগুলির কোনোটি দেখা দিলে শিশুটিকে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। ব্যথার পাশাপাশি বমি বমি ভাব, বমি, জ্বর এবং ঠাণ্ডা লাগার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনিতে পাথর থাকার ফলে অন্যান্য জটিলতাও দেখা দিতে পারে। ‘মেডলাইন প্লাস’-এর তথ্য অনুযায়ী, এই পাথর মূত্রনালিতে বা মূত্রপথে বাধার সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে প্রস্রাব উল্টো দিকে প্রবাহিত হয়ে ‘হাইড্রোনফ্রোসিস’ বা কিডনি ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই অবস্থা শেষ পর্যন্ত কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্রাব জমে থাকলে ‘সিস্টাইটিস’ বা দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়া মূত্রনালি সরু হয়ে যাওয়ার ফলে ‘ফিস্টুলা’ তৈরি হতে পারে।

কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে জন্মগত ত্রুটি, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং ভিটামিনের ঘাটতি। জিনগত কারণেও প্রস্রাবে সিস্টিনের মাত্রা বেড়ে পাথর তৈরি হতে পারে। অনেকে দীর্ঘক্ষণ টিভি বা মোবাইল দেখার সময় প্রস্রাব আটকে রাখেন, যার ফলে সংক্রমণ ও লবণ জমার মতো সমস্যা দেখা দেয়। শিশুরা খেলাধুলায় মগ্ন থেকে জল পান করতে ভুলে যায়, ফলে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দেয় এবং প্রস্রাব ঘন হয়ে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়। রেড মিট বা সামুদ্রিক খাবারের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা পাথর সৃষ্টিতে সহায়ক।

অতিরিক্ত লবণ ও জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ফলে সোডিয়াম প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। জন্মগতভাবে মূত্রনালি সরু হওয়া বা স্থূলতার কারণে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বৃদ্ধি পাওয়াও কিডনিতে পাথরের অন্যতম কারণ। গ্লুকোকর্টিকয়েড ও অ্যান্টাসিডের মতো কিছু ওষুধ এবং জন্মগত মেরুদণ্ড-সংক্রান্ত সমস্যাও এর জন্য দায়ী। যেসব এলাকায় ভূগর্ভস্থ জল লবণাক্ত, সেখানকার বাসিন্দাদের এই ঝুঁকি বেশি থাকে। ভিটামিন ‘এ’-র ঘাটতির কারণে মূত্রথলিতে পাথর তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। হার্ভার্ড হেলথ জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্যাপ্ত জল ও তরল পান করা উচিত এবং ঠান্ডা পানীয়, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি।