ভোটের ফল বেরোতেই উধাও! অবশেষে গ্যাজিপুরের আত্মীয়ের বাড়ি থেকে পাকড়াও প্রাক্তন পুরপিতা

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই শাসকদলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ এবং আইনি পদক্ষেপের ঘটনা নতুন নয়। এবার হাওড়ার রাজনীতিতে বড় ধরনের চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল, যখন তোলাবাজি ও একাধিক ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত এক দাপুটে তৃণমূল নেতাকে উত্তরপ্রদেশের গ্যাজিপুর থেকে গ্রেফতার করল হাওড়া সিটি পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা দল। ধৃত শৈলেশ রায় হাওড়া পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রভাবশালী নেতা অরূপ রায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই রাজনৈতিক মহলে পরিচিত।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শৈলেশ রায়ের বিরুদ্ধে হাওড়া থানায় তোলাবাজি, ভীতিপ্রদর্শন, হুমকি এবং গত বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর সংঘটিত ভোট-পরবর্তী হিংসার মতো একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। চলতি বছরের গত ৪ মে ভোটের ফলাফল প্রকাশ্যে আসার পরেই তিনি পুলিশ ও প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে এলাকা থেকে চম্পট দেন এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। অবশেষে গোপন খবরের ভিত্তিতে হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি চৌকস দল উত্তরপ্রদেশের গ্যাজিপুরে অভিযান চালায়। সেখানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে থাকার সময় তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা।

গ্রেফতারের পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্থানীয় আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানান তদন্তকারী আধিকারিকরা। আদালতের অনুমোদন পাওয়ার পরেই প্রাক্তন এই পুরপিতাকে নিয়ে হাওড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় পুলিশের দলটি এবং শুক্রবার তাঁকে সরাসরি হাওড়া আদালতে পেশ করা হয়। উল্লেখ্য, এটিই প্রথমবার নয়, এর আগেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জেরে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন শৈলেশ রায়। ২০১৬ সালে একটি বহুতল আবাসিক ভবনের সিকিউরিটি গার্ড বিজয় মল্লিক খুনের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তৎকালীন কাউন্সিলর হিসেবে তাঁর নাম জড়িয়েছিল এবং ২০১৭ সালে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বিচার চলাকালীন তিনি দীর্ঘদিন হাওড়া জেলা সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন এবং পরবর্তীতে সেই মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছিলেন।

অন্যদিকে, সম্প্রতি এই ঘটনার সমান্তরালে রাজ্যের বিরোধী শিবির তথা বিজেপির অন্দরেও তোলাবাজির অভিযোগ ঘিরে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের তরফে কড়া বার্তার পরও বিভিন্ন জেলা থেকে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে কাটোয়া থেকে ঠিক এমন একটি চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ্যে এসেছিল, যেখানে খোদ বিজেপির নগর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ মোট সাতজন নেতার বিরুদ্ধে থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়। স্থানীয় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের এক ক্লার্ক সুজন ঘোষ অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁর কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা বা তোলা দাবি করা হয়েছিল। মাত্র ২০ হাজার টাকা দেওয়ার পরেও তাঁকে লক্ষ্য করে স্থানীয় বিজেপি নেতাদের একাংশ চড়াও হয়ে মারধর করেন এবং আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছিল। একের পর এক এই ধরনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।