কালীঘাটে অবরুদ্ধ মমতা! বাড়ির সামনে পুলিশি ঘেরাটোপ নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার রাত থেকে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে বিপুল পরিমাণ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তৃণমূল নেত্রীর স্পষ্ট অভিযোগ, বারুইপুরের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করা থেকে তাঁকে বিরত রাখতে রাজ্য প্রশাসন তাঁকে কার্যত ‘গৃহবন্দী’ করে রেখেছে।
রবিবার গভীর রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে লাইভ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এখন আমি তো একা। আমায় এত ভয় পাচ্ছেন কেন? এক হাজার পুলিশ, সিআরপিএফ, আইবি, সিআইডি সবাই মিলে আমার বাড়ির সামনে জমায়েত হয়েছে।” এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাতারাতি কালীঘাটে ভিড় জমান তৃণমূলের শীর্ষ স্থানীয় নেতা-নেত্রীরা।
সোমবার সকালে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেল, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলির মুখে এবং তাঁর বাসভবনের প্রবেশপথে নিরাপত্তা বলয় আজও যথেষ্ট কড়া। যদিও রাতের তুলনায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা কিছুটা কম করা হয়েছে, তবুও নজরদারিতে বিন্দুমাত্র খামতি রাখেনি প্রশাসন। পুলিশি ঘেরাটোপের মধ্যেই চলছে কড়া নজরদারি।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে দোষারোপের পালা। রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এই ঘটনাকে তৃণমূলের ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই এই নাটক করছে তৃণমূল। কয়েকদিন আগে মমতার পিএসও-দের পরিবর্তন করা হলেও ওরা একইভাবে নাটক করেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেড প্লাস নিরাপত্তা পান। তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, এতে সমস্যা কোথায়? প্রশাসন কি বলেছে তিনি বাড়ি থেকে বেরোতে পারবেন না?”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বারুইপুরের ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ এবং তার প্রেক্ষিতে পুলিশের এই সক্রিয়তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি শাসকদলের রাজনৈতিক কৌশলের ওপরও নতুন করে আলোকপাত করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি এবং বিজেপির পাল্টা আক্রমণের জেরে আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আপাতত কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট চত্বরে উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি, বরং বিভিন্ন মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।