কামদুনি কাণ্ডে ঐতিহাসিক মোড়! নির্যাতিতার পাশে রাজ্য, আইনি লড়াইয়ে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত

কামদুনি গণধর্ষণ ও হত্যা কাণ্ডে আইনি লড়াইয়ে এক নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় নিল রাজ্য সরকার। সুদীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর এবার নির্যাতিতার পরিবারের পাশে সরাসরি দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, সুপ্রিম কোর্টে চলা এই মামলার আইনি লড়াইয়ে নির্যাতিতার পরিবারকে সবরকম আইনি সহযোগিতা প্রদান করবে রাজ্য সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারের জন্য আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়েছে।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই স্পর্শকাতর মামলায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে অতীতে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষত, বারাসত আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তীতে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় রাজ্য প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে বিরোধীরা সরব ছিলেন। সেই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আজ ঘোষণা করেন যে, পূর্ববর্তী কোনো অবস্থান থাকলে তা থেকে সরে এসে বর্তমান প্রশাসন এখন পূর্ণ শক্তি দিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের আইনি লড়াইকে সমর্থন করবে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। কামদুনি কাণ্ড পশ্চিমবঙ্গের অপরাধের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়। ঘটনার পর থেকেই বিচারের দাবিতে নির্যাতিতার পরিবার এক অসম লড়াই চালিয়ে আসছে। বিভিন্ন আদালতে শুনানি এবং রায়দান পর্ব চললেও, মামলার আইনি জটিলতা আজও পুরোপুরি কাটেনি। সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় রাজ্য সরকারের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ ও আইনি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বিচারপ্রক্রিয়াকে নতুন গতি দেবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

বারুইপুরের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট করেন, সংবেদনশীল মামলাগুলিতে বিচার যাতে দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার। আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তার মাধ্যমে অপরাধের শিকার পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা রাজ্যের বর্তমান বিচারবিভাগীয় দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন। কামদুনি মামলার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রাজ্য সরকারের এই সক্রিয় পদক্ষেপ কীভাবে রায়কে প্রভাবিত করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।